দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় আট ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহানোর পরও মাস শেষে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের চাপ সামলাতে হচ্ছে বরিশাল নগরীসহ বিভিন্ন উপজেলার গ্রাহকদের। নিয়মিত বিদ্যুৎ না পেলেও আগের মাসের তুলনায় ২০ শতাংশ থেকে শুরু করে কোথাও কোথাও প্রায় দ্বিগুণ বিল এসেছে বলে অভিযোগ তাদের। একদিকে দীর্ঘ লোডশেডিং, অন্যদিকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল-এই দ্বিমুখী ভোগান্তিতে ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বরিশাল নগরীর অধিকাংশ এলাকায় দুই ঘণ্টা পরপর প্রায় এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে দিনে গড়ে প্রায় আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। এলাকা ভেদে দিন-রাত মিলিয়ে ৭ থেকে ১০ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবারই এক থেকে দুই ঘণ্টা, কোথাও কোথাও এরও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। শুধু দিনের পিক আওয়ারেই নয়, গভীর রাতেও দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হওয়ায় জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, বাসাবাড়ির স্বাভাবিক কাজকর্ম এবং ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যপণ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বরিশাল সদর উপজেলার অবস্থাও প্রায় একই। গ্রামীণ জনপদের বাসিন্দারাও লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিলের ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
বরিশাল নগরীর কলেজ অ্যাভিনিউ এলাকার বাসিন্দা শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘গত মে মাসে আমার বিদ্যুৎ বিল ছিল ৬ হাজার ৩০০ টাকা, জুনে ৬ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ জুলাই মাসে বিল এসেছে ১১ হাজার ৫০০ টাকা। জুলাইয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার কিছুটা বাড়লেও বিল কোনোভাবেই প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার মতো নয়। সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, এত বেশি বিল দেওয়ার পরও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছি না।’
বরিশাল সদর উপজেলার কর্ণকাঠী এলাকার বাসিন্দা মো. জিম বলেন, ‘জুন মাসের তুলনায় জুলাইয়ে আমার বিদ্যুৎ বিল দ্বিগুণেরও বেশি এসেছে। সরকার ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়েছে, কিন্তু সেই হিসাবে এত বেশি বিল হওয়ার কথা নয়। অতিরিক্ত বিল দিয়েও প্রতিদিন লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
এ বিষয়ে ওজোপাডিকোর (দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণের সরকারি কোম্পানি) বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার বলেন, ‘সোমবার আমাদের বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৫৩ মেগাওয়াট। কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে পেয়েছি মাত্র ৩৯ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের যেসব অভিযোগ পেয়েছি, সেগুলো তদন্তের জন্য কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। বিদ্যুতের নতুন ট্যারিফ কার্যকর হওয়ায় বিল বেড়েছে। এ কারণে অনেক গ্রাহকের মধ্যে বিল নিয়ে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে।’ বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার এবিএম মিজানুর রহমান বলেন, ‘চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পেলেই লোডশেডিং করতে হয়। আবার ঝড়বৃষ্টিতে তার ছিঁড়ে গেলে নিরাপত্তার স্বার্থেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়। তবে মঙ্গলবার আমাদের আওতাধীন এলাকায় কোনো লোডশেডিং ছিল না।’








