ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দেওয়ায় এক জুলাই যোদ্ধাদের মারধর করতে তেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকালে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়ামে দোয়া মাহফিল ও সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। সভায় ঝিনাইদহ-৪ আসনের (কালীগঞ্জ-সদর আংশিক) এমপি আবু তালেব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধা, স্থানীয় সংবাদকর্মী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে উপজেলার গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা হুসাইন আহমেদ বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে হুসাইন আহমেদ বলেন, এই সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে নানা রকম সাংবিধানিক অজুহাত সামনে আনছে। গণভোটকে সরকার অবৈধ বলে আখ্যা দিচ্ছে। তাহলে আমরা বলতে চাই, গণভোট অবৈধ হলে এ সরকারও অবৈধ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, জুলাই যোদ্ধা হুসাইন আহমেদের এমন বক্তব্যের বিরোধিতা করেন উপস্থিত বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাহাবুবুর রহমান মিলন, আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া নজরুল মোল্লার ছেলে জুয়েল রানা ও আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আনারের ঘনিষ্ঠ সোহেল আহমেদ জুলাই যোদ্ধা হুসাইন আহমেদসহ অন্যরা দিকে মারতে তেড়ে যান।

দোয়া মাহফিলে জুলাই যোদ্ধাদের মারতে তেড়ে গেলেন বিএনপি নেতারা

এক পর্যায়ে স্থানীয় এমপি আবু তালেব, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ ও কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

পরে জুলাই যোদ্ধা হুসাইন আহমেদের বক্তব্য থামিয়ে অনুষ্ঠান পুনরায় শুরু হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় দোয়া মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দ্রুত অনুষ্ঠান শেষ করা হয় বলেও জানা গেছে।

জুলাই যোদ্ধা হুসাইন আহমেদ বলেন, আমি যখন বক্তব্য দিচ্ছিলাম, বিএনপির কিছু লোকজন সেটির বিরোধিতা করে। ওই সময় সাংবাদিক পরিচয়ে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররাও বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগ দিয়ে আমার বক্তব্য থামিয়ে দেয়। জুলাই আন্দোলনকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলা এক কথিত সাংবাদিক আজ এ ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। কিন্তু আমরা বস্তুনিষ্ঠ ও গণমানুষের সাংবাদিক চেয়েছিলাম।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম বলেন, ওখানে তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। একজন বক্তব্য দেওয়ার সময় সরকার বিরোধী বক্তব্য দেয়। এসময় মঞ্চের সামনে উপস্থিত বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন। মারতে তেড়ে যাওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, উপজেলার নিবন্ধিত জুলাই যোদ্ধা হুসাইন আহমেদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন। তার বক্তব্য চলাকালে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী তার বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। এসময় বাগ্‌বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরে আমাদের সবার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এম শাহাজান/কেএইচকে/জেআইএম