কুড়িগ্রামের দুধকুমার নদের তীব্র ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ৩ শতাধিক পরিবার। সদর উপজেলার যাত্রাপুর ও ঘোগাদহ ইউনিয়নের ভৈষেরকুটি, খামার, ব্রহ্মোত্তর, চর যাত্রাপুর ও বাণিয়াপাড়াসহ ৭-৮টি গ্রামে এই ভাঙন চলছে। গত কয়েক বছর ধরে ভাঙন অব্যাহত থাকলেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বসতভিটা, আবাদি জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাঙনকবলিতদের ভাগ্যে জোটেনি কোনো আর্থিক সহায়তা। নামমাত্র চাল দিয়ে তাদের সান্ত্বনা দেওয়া হচ্ছে। যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর বলেন, ‘গতবার আমার ইউনিয়নে শতাধিক বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। এবার গেছে ২৭৫টি বাড়ি। জেলা প্রশাসন এলাকা পরিদর্শন করে মাত্র কয়েকজনকে শুকনো খাবার দিয়েছে। ভাঙনকবলিতদের জন্য আগে টিন ও অর্থ বরাদ্দ থাকলেও এখন তা মিলছে না।’ তিনি আরও জানান, বাণিয়াপাড়ায় ৫০০ জিও ব্যাগ ফেলে রাখা হলেও সেগুলো এখনো ব্যবহার শুরু হয়নি।নদীপাড়ের বাসিন্দা আখলিমা ও জব্বার শেখ বলেন, ‘আবাদি জমি, ঘরবাড়ি সব নদীতে চলে যাচ্ছে। কোনো কাজ হচ্ছে না। দ্রুত জিও ব্যাগ না ফেললে আমাদের সব শেষ হয়ে যাবে।’কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘ভাঙনকবলিতদের তালিকা পেলে যাচাই-বাছাই করে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে। বর্তমানে আমাদের কাছে কোনো অর্থ বা ঢেউটিনের বরাদ্দ নেই। পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করছি।’কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, বর্তমানে ৪০টি পয়েন্টে ভাঙন চলছে। এর মধ্যে ৩০টি পয়েন্টে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। যাত্রাপুরেও ব্যাগ ভর্তি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কমিটির তদন্ত শেষে সেগুলো নদীতে ফেলা শুরু হবে।\
রাজনীতি
দুধকুমারের ভাঙনে কুড়িগ্রামে শতাধিক পরিবার দিশেহারা
শেয়ার করুন







