সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের এক কোণে নিথর হয়ে বসে আছে দুই ভাইবোন- ১৬ বছর বয়সী জান্নাতুল ও তার ছোট ভাই মোহাম্মদ। চোখে-মুখে বিস্ময় আর শোকের ছাপ, মুখে কোনো কথা নেই। সামনের শয্যায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় শুয়ে আছেন বাবা জাহাঙ্গীর আলম, পাশেই আহত মা নুরুন নাহার।

কিন্তু এই দুই ভাইবোনের আকুল চোখ যাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে, সেই চার বছর বয়সী ছোট বোন জাইফা আর বেঁচে নেই।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে ঢাকার বিক্রমপুরের গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য পুরো পরিবার নিয়ে ইউনিক পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন জাহাঙ্গীর আলম। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি পরিবার নিয়ে দক্ষিণ সুরমার চণ্ডিপুল এলাকায় থাকতেন এবং টায়ারের ব্যবসা করে সংসার চালাতেন। কিন্তু ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এক মুহূর্তের ঝড় পুরো পরিবারটির জীবন ছিন্নভিন্ন করে দিল।

ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ইউনিক পরিবহনের বাসটির সঙ্গে বিপরীতমুখী বেঙ্গল পরিবহনের-একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্য শিশু জাইফা। গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে ঠাঁই হয় বাবা-মায়ের।

দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, স্বজন ও প্রতিবেশীরা ঘিরে রেখেছেন অচেতন জাহাঙ্গীরকে। কথা বলার অবস্থায় নেই তিনি। পাশে দাঁড়িয়ে কাঁপা গলায় দুর্ঘটনার সেই বিভীষিকাময় বর্ণনা দেয় বড় মেয়ে জান্নাতুল। সে বলে, “গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য সকালে আমরা সবাই বাসে উঠি। আমি আর ভাই বাসের বাম পাশে বসেছিলাম। বাবা-মা ছোট বোনকে নিয়ে ডান পাশে ছিলেন। হঠাৎ দেখি একটি মোটরসাইকেল বাসের সামনে এদিক-ওদিক করছে। এরপর কী যে হলো... শুধু একটা বিকট শব্দ মনে আছে। আর কিছু বলতে পারছি না।”

দক্ষিণ সুরমার চণ্ডিপুল এলাকায় বছরের পর বছর ধরে স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে থাকতেন তিনি, গাড়ির টায়ারের ব্যবসা করে সংসার চালাতেন—প্রতিবেশীদের ভাষ্যে এমনটাই জানা যায়। কিন্তু সেই যাত্রা যে এমন বিভীষিকা বয়ে আনবে, কল্পনাও করেননি কেউ।

ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বিপরীতমুখী বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মুহূর্তেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এই পরিবারের স্বাভাবিক জীবন। প্রাণ হারায় সবচেয়ে ছোট সদস্য জাইফা। গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন বাবা-মা দুজনই।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনরা ঘিরে আছেন অচেতন জাহাঙ্গীরকে। কথা বলার মতো অবস্থায় নেই তিনি। পাশে দাঁড়িয়ে কাঁপা গলায় দুর্ঘটনার বর্ণনা দেয় জান্নাতুল। সে বলে, ‘গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য সকালে আমরা সবাই ইউনিক বাসে উঠি। আমি আর আমার ভাই বাসের বাম পাশে বসেছিলাম। বাবা-মা ছোট বোন জাইফাকে নিয়ে ডান পাশে ছিলেন। হঠাৎ দেখি একটি মোটরসাইকেল বাসের সামনে এদিক-ওদিক চলাচল করছে। এরপর কী হয়েছে, ঠিক মনে নেই। শুধু মনে আছে, বিকট শব্দ হয়েছিল। তারপর আর কিছু বলতে পারি না।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সোয়া সাতটার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই সাতজন মারা যান এবং পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় আরো দুজনের। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৪ জন।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রাশেদ মুনীর জানান, হাসপাতালে আহত অবস্থায় ১৬ জনকে আনা হয়। সেখানে আহত চার বছর বয়সী একটি শিশুকে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়, যার কারণ হিসেবে গুরুতর মাথার আঘাতকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১৪ জনের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।