৬ জুলাই ডালাস স্টেডিয়ামে পর্তুগাল–স্পেন ম্যাচ শেষে ক্যামেরা খুঁজে নিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে। এসেছিলেন নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে, যা ছিল তাঁর শেষ সুযোগ। কিন্তু পারফরম্যান্সটা রোনালদোসুলভ হলো না। ৫ ম্যাচে ৩ গোল, প্রথমবারের মতো গোল পেয়েছেন নকআউট পর্বে। তবু এই বিশ্বকাপে ব্যর্থতার কাতারেই থাকবে এই মহাতারকার নাম। একই মঞ্চে লিওনেল মেসি-আর্লিং হলান্ডরা যখন টেনে নিয়ে যাচ্ছেন দলকে, রোনালদো সেখানে ব্যর্থ। সেই সঙ্গে পর্তুগালের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন থেমেছে শেষ ষোলোয়।
কোটি মানুষের স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বমঞ্চে আসা তারকারাও তো স্বপ্ন দেখেন। কিছু স্বপ্ন সত্যি হয়, কিছু হয় না। বড় তারকা হওয়ার বুঝি এই এক অসুবিধা, ঝড়ের বড় ঝাপটা আসে তাঁদের ওপরেই।
ব্রুনো ফার্নান্দেজকে সামলাতে হচ্ছে সেই ঝড়টা। পর্তুগালের বিদায়ের পর দেওয়া নিজের এক্স হ্যান্ডলের পোস্টের কমেন্ট বক্স পর্যন্ত বন্ধ করে দিতে হয়েছে। ব্রুনোর হওয়ার কথা ছিল মাঝমাঠের ভরসা, কিন্তু সুবিচার করতে পারেননি নামের প্রতি। ৫ ম্যাচে নিজের কোনো গোল নেই, মাত্র এক অ্যাসিস্ট। মাত্র পাঁচটি সুযোগ তৈরি করতে পেরেছেন। ব্যাকপাস, আড়াআড়ি পাসই বেশি করেছেন। পিএসজির জার্সিতে টানা দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা ভিতিনিয়া-জোয়াও নেভেসও মাঝমাঠে সৃষ্টিশীলতা দেখাতে পারেননি। এ দুজনও ঠিকমতো বলের জোগান দিতে পারেননি আক্রমণভাগে।
বিদায় রোনালদো, স্বাগত নতুন পর্তুগালজার্মান মাঝমাঠেও একই দুর্দশা। নবাগত কুরাসাওকে ৭–১ গোলে হারানোর ম্যাচে অনেকেই খুঁজে পেয়েছিলেন পুরোনো জার্মানির ছোঁয়া। কিন্তু বিশ্বকাপ যত সামনে এগিয়েছে, জার্মান যন্ত্রে ধরেছে জং। মাঝমাঠ আর আক্রমণকে সুতায় বাঁধার কাজটা ছিল ২৩ বছর বয়সী জামাল মুসিয়ালার কাঁধে। টুর্নামেন্টে চার ম্যাচ খেলে মুসিয়ালা করেছেন এক, সেই গোলটিও কুরাসাওয়ের বিপক্ষে।
বাকি তিন ম্যাচে নিজেকে হারিয়ে খুঁজেছেন। শেষ ৩২-এর ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কোচ ইউলিয়ান নাগলসমান একাদশেই রাখেননি মুসিয়ালাকে। পুরো টুর্নামেন্টে তাঁর দুই সতীর্থ মিডফিল্ডার পাভলোভিচ ও এনমেচার সঠিক পাসের হার যেখানে ৯২ শতাংশ, সেখানে মুসিয়ালার মাত্র ৮০ শতাংশ। ওদিকে জার্মানির রাইট ব্যাক ও অধিনায়ক ইউশোয়া কিমিখ কুরাসাওয়ের বিপক্ষে দুটি অ্যাসিস্ট ছাড়া বলার মতো আর কিছু করতে পারেননি। জার্মানির ডিফেন্ডারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭টি ফাউল করেছেন তিনিই। টুর্নামেন্টে ৪ ম্যাচে ৫ গাল খেয়েছে জার্মানি, যার দায় কিছুটা হলেও বর্তায় কিমিখের ওপর।
উরুগুয়ের আশা ছিল, মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভার্দে ভালো কিছু করবেন। কোচ মার্সেলো বিয়েলসা তাঁকে তিন ম্যাচেই একাদশে রেখেছিলেন। কিন্তু তাঁর কোনো গোল নেই, এমনকি নেই কোনো অ্যাসিস্টও। নকআউটে যেতে স্পেনের বিপক্ষে বাঁচামরার ম্যাচে কোচ তাঁকে উঠিয়ে নেন ৬০ মিনিটে। কোচের সঙ্গে তাঁর ঝামেলা বেধেছিল বিশ্বকাপের শুরু থেকেই। বিশ্বকাপে নিষ্প্রভ থাকায় সমর্থকের দুয়োও শুনতে হয়।
হুলিয়ান আলভারেজ সেই তুলনায় বেশ ভাগ্যবানই। ভক্তদের দুয়ো এখনো শুনতে হয়নি তাঁকে। শেষ ষোলো পর্যন্ত বিশ্বকাপের পাঁচ ম্যাচেই মাঠে নেমেছেন। কিন্তু করতে পারেননি কিছুই। উল্টো বিশ্বকাপ চলার সময়ই সংবাদমাধ্যমে কথা বলেছেন নিজের ক্লাব বদল নিয়ে। অথচ চার বছর আগে তাঁকে ভাবা হয়েছিল আর্জেন্টিনার যুবরাজ।
কাতার বিশ্বকাপে সাত ম্যাচে করেছেন চার গোল, যার মধ্যে দুটি সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। যা দেখে স্বয়ং লিওনেল মেসিও আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ দেখছিলেন আলভারেজের মধ্যে। এবারের বিশ্বকাপ তো হওয়ার কথা ছিল তাঁরই। কিন্তু পাঁচ ম্যাচে পোস্টে শট নিয়েছেন মাত্র তিনটি। কোনো গোল নেই, নেই কোনো অ্যাসিস্টও।
তবে আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে আরও তিন ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকবে ২৬ বছর বয়সী আলভারেজের সামনে। অন্তত শেষ দিকে হলেও গত বিশ্বকাপের মতো জ্বলে উঠতে পারলে এই বিশ্বকাপও নিজের করে নেওয়ার সুযোগ আছে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের সামনে।







