বর্ষা এলেই প্রাণ ফিরে পায় বাংলাদেশের হাওরাঞ্চল। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার কিংবা কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা—যেখানেই যান, চারদিকে বিস্তীর্ণ জলরাশি আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য। বিশেষ করে সুনামগঞ্জে এখন আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নানা ধরনের হাউসবোটে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

হাউসবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আরাফাত হোসেন আকন্দ জানান, চলতি মৌসুমে নন-এসি হাউসবোটে জনপ্রতি ভাড়া চার হাজার থেকে আট হাজার টাকা। আর এসি হাউসবোটে জনপ্রতি খরচ হবে ৮ হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকা।

মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দিচ্ছে

সাধারণত এই প্যাকেজে দুই দিন এক রাতের ভ্রমণ এবং পাঁচ বেলার খাবার অন্তর্ভুক্ত থাকে। একটি হাউসবোটে সাধারণত ৬ থেকে ১২টি কেবিন থাকে। প্রতিটি কেবিনে দুই থেকে তিনজন থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। পুরো কেবিন বুক করলে অনেক প্রতিষ্ঠান কিছুটা ছাড়ও দিয়ে থাকে।

যাঁরা বর্ষার হাওরভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য ৯ থেকে ১১ জুলাই ঢাকার আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে বসেছে তিন দিনব্যাপী হাউসবোট মেলা। হাউসবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই মেলায় হাওর ছাড়াও দেশের বিভিন্ন নদী ও কাপ্তাই হ্রদে পরিচালিত ১২০টির বেশি হাউসবোট প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।

শীত থেকে গ্রীষ্মের মাঝামাঝি পর্যন্ত পদ্মায় সেবা দেয় কিছু হাউসবোট

আয়োজকেরা জানিয়েছেন, মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দেওয়া হচ্ছে। ফলে টাঙ্গুয়ার হাওর, কাপ্তাই লেক, পদ্মা কিংবা দেশের অন্যান্য নদীভিত্তিক গন্তব্যে আগামী কয়েক মাসের ভ্রমণ আগাম বুকিং দিলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করা যাবে।

মেলায় দর্শনার্থীরা সরাসরি হাউসবোট মালিক ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন প্যাকেজ, সুযোগ-সুবিধা, নিরাপত্তাব্যবস্থা, খাবার, ভ্রমণপথ, ভাড়া ও বুকিং-সংক্রান্ত তথ্য জানতে পারবেন। পাশাপাশি একই স্থানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্যাকেজ তুলনা করে পছন্দের হাউসবোট বেছে নেওয়ার সুযোগও থাকছে।

এবারের মেলার বিশেষ আকর্ষণ ১০০ টাকার লটারি কুপন। এই কুপনের মাধ্যমে ৫০ জন বিজয়ী সঙ্গীসহ বিলাসবহুল হাউসবোটে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছে আয়োজকেরা।

কেপ ভার্দে যেতে কি বাংলাদেশিদের আগাম ভিসা লাগবে?