আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুর হতে যাওয়া চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী, পরীক্ষাকেন্দ্র এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবই বেড়েছে। এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। নকল প্রতিরোধে সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং সেল স্থাপন করা হয়েছে। মনিটরিং সেলে বসে বাংলদেশের যেকোনো প্রান্তের যেকোনো কেন্দ্রের পরীক্ষা মনিটরিং করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া, কেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। ফলে পরীক্ষা কেন্দ্রে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম থাকবে।
আজ বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনের এসব কথা জনান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড মাহ্দী আমিন।
মূল তথ্য তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘এবার মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। সব বোর্ডে এবার মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২ হাজার ৬৯৭টি এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মোট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৩৯ টি।’
যেদিন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না, সেদিন প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলেও জানান মাহ্দী আমিন। তিনি জানান, এ ছাড়া নকলের জন্য পরিচিত কিছু কেন্দ্র বাতিল করা হয়েছে। তবে হাওড়, পার্বত্য অঞ্চল এবং দুর্গম চরাঞ্চলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কিছু ভেন্যু কেন্দ্র এখনো আছে। সেভেন্থ ডে এডভান্টিস্ট সম্প্রদায়ের পরীক্ষার্থীদের শনিবারের পরীক্ষা বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা কেন্দ্রে সূর্যাস্তের পর অনুষ্ঠিত হবে।
মাহদী আমিন জানান, ২০২৫ সালে সর্বমোট পরীক্ষার্থীর (নিয়মিত ও অনিয়মিত) সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৮ জন, এর মধ্যে ছাত্র ছিল ৪ লাখ ৯১ হাজার ২৮৪ জন এবং ছাত্রী ছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার ১১৪ জন। ২০২৬ সালে সর্বমোট পরীক্ষার্থীর (নিয়মিত ও অনিয়মিত) সংখ্যা ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪০৬ জন এবং ছাত্রী ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৩০৮ জন। ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে সর্বমোট ১৪ হাজার ৩১৬ জন পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ১২২ জন এবং ছাত্রী ১৩ হাজার ১৯৪ জন।
আর ২০২৫ সালে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৮০৮ টি। ২০২৬ সালে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪ হাজার ৮৮৫ টি। ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি পেয়েছে ৭৭ টি।
এ ছাড়া, ২০২৫ সালে সর্বমোট পরীক্ষার কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬০৫ টি। ২০২৬ সালে সর্বমোট পরীক্ষার কেন্দ্রের সংখ্যা ১ হাজার ৬২৬। এবার পরীক্ষা কেন্দ্র বেড়েছে ২১ টি।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেন, এবার পাবলিক পরীক্ষা আইনে পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন আইনে অনেক কড়াকড়ি এসেছে। ফলে অন্যবারের তুলনায় এবার পরীক্ষা সুষ্ঠু হবে। এছাড়াও পরীক্ষায় খাতা মূল্যায়নকারীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানানা, আগামী বছরের এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি এগিয়ে আনা হয়েছে। ইতিমধ্যে রুটিন প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী বছর কারিকুলামে পরিবর্তন করা হবে। ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।







