ফ্রান্সের বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার গল্প শুধু কিলিয়ান এমবাপের জয়সূচক গোলেই সীমাবদ্ধ ছিল না। প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারানোর পর প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম জানিয়েছেন, শেষ বাঁশি বাজার পর এমবাপেকে সম্ভাব্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে নিরাপদে রাখতে তিনি আগে থেকেই বিশেষ পরিকল্পনা করেছিলেন। ২০১৮ বিশ্বকাপের একটি ঘটনার কথা মনে রেখেই এই ব্যবস্থা নেন তিনি।

দেশমের মতে, দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলোর বিপক্ষে অতীতে শারীরিক সংঘর্ষের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি সতর্ক ছিলেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বেঞ্চে থাকা দুই শক্তিশালী খেলোয়াড়কে এমবাপেকে ঘিরে রাখার নির্দেশ দেন, যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে তাকে নিরাপদে রাখা যায়।

ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম এম৬ (M6)-কে দেশম বলেন, ‘২০১৮ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের কথা আমার মনে আছে। তখন আমাকে তাকে (এমবাপেকে) মাঠ থেকে তুলে নিতে হয়েছিল, কারণ ওরা তাকে টুকরো টুকরো করে ফেলতে যাচ্ছিল। তাই এবার বেঞ্চে থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী দুই খেলোয়াড়কে বলেছিলাম, ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেন তারা তাকে নিরাপত্তা দেয়। কারণ কখন কী হয়, বলা যায় না। খেলা শেষ হলেও সবকিছু শেষ হয়ে যায় না। আমি কোনো খেলোয়াড়কে হারাতে চাই না।’

দেশম একই সঙ্গে প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ের প্রশংসাও করেন। তার মতে, শারীরিকভাবে অত্যন্ত কঠিন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল খেলায় তারা ফ্রান্সকে বড় পরীক্ষার মুখে ফেলেছিল। এই ম্যাচটিকে তিনি এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের অন্যতম কঠিন লড়াই বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘এটি মোটেও সহজ ম্যাচ ছিল না। তারা জয়ের জন্য সম্ভাব্য সব উপায়ই কাজে লাগায়। হয়তো তাদের খেলার ধরন দর্শকদের মাঠে টানে না। তারা খুবই আক্রমণাত্মক, অনেক সময় সীমারও বাইরে চলে যায়। তাদের বিপক্ষে খেলা কঠিন, কারণ তারা খুব ঘন রক্ষণ গড়ে তোলে এবং দারুণভাবে রক্ষণ সামলাতে জানে। দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলোর বিপক্ষে খেলা সবসময়ই কঠিন। তাই আমার খুব ভালো লাগছে যে, আমাদের দল এই চ্যালেঞ্জটা উতরে যেতে পেরেছে।‘

এই ম্যাচেও ফ্রান্সের নায়ক ছিলেন এমবাপে। তার একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে ফরাসিরা। তবে গোল করার পাশাপাশি পুরো ম্যাচজুড়েই তিনি ছিলেন প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডারদের বিশেষ নজরে। একের পর এক কঠোর ট্যাকল ও শারীরিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে ফরাসি এই তারকা ফরোয়ার্ডকে।

আরএএইচইউএল/এমএমআর