সবশেষ বাংলাদেশে এশিয়া কাপ হয়েছিল ২০১৬ সালে। মহেন্দ্র সিং ধোনি, বিরাট কোহলিরা যখন উদযাপনে ব্যস্ত, তখন মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালদের হতাশাগ্রস্ত চেহারা এখনো ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখে ভাসে। গত এক দশকে কত কিছুরই তো পরিবর্তন হয়েছে। অবশেষে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের টুর্নামেন্ট ফিরছে ১১ বছর পর। সম্ভাব্য তিন ভেন্যুর নামও জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশে হচ্ছে ২০২৭ এশিয়া কাপ। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) এখনো চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ করেনি। তবে বিসিবি তিনটি ভেন্যুতে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। বোর্ডের নিরাপত্তা কমিটির চেয়ারম্যান সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ বলেন, ‘মিরপুর, চট্টগ্রাম এবং সিলেট। আমাদের এই তিনটা আন্তর্জাতিক ভেন্যু আছে। তবে আবারও বলছি, এখনো অনেক কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। তো ইনশাল্লাহ আগামী বছর এশিয়া কাপ যদি বাংলাদেশে হয়, তাহলে আপনারা জিনিসটা দেখতে পাবেন।’

বগুড়ায় সর্বসাকল্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ছয় ম্যাচ হয়েছে। এই মাঠেই শ্রীলঙ্কাকে হারানোর কীর্তি রয়েছে বাংলাদেশের। অথচ বাংলাদেশের ঐতিহাসিক লঙ্কাজয়ের ভেন্যুতে গত ২০ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হয়নি। বগুড়ায় কি হতে পারে এশিয়া কাপের কোনো ম্যাচ—সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে ইব্রাহিম বলেন, ‘আসলে বগুড়া মাঠটা নিয়ে আমরা এখনো কাজ করছি। আমরা যদি এই ভেন্যু ঠিকঠাক ম্যানেজ করতে পারি...সেটা পরের বিষয়। কিন্তু আপাতত ঢাকা, সিলেট এবং চট্টগ্রাম।’

২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশে আর কোনো আইসিসির টুর্নামেন্ট হয়নি। এশিয়া কাপ হয়েছে ২০১৬ সালে। দীর্ঘ ১১ বছর পর হতে যাওয়া এশিয়া কাপ যেন ভক্ত-সমর্থকেরা উপভোগ করতে পারেন, বিসিবির পরিকল্পনা তেমন কিছুই। নিরাপত্তা বিভাগের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম বলেন, ‘প্রত্যেকটা ভেন্যুতেই আমরা আশাবাদী যে অন্তত একটা হলেও খেলা হবে। বাকিটা তো আমরা আগামী কয়েক দিনে বলতে পারব। তবে আমরা আশাবাদী যে এত বছর পরে এশিয়া কাপ আবার বাংলাদেশে আসছে। আমরা যেন খেলাপ্রেমী দর্শকদের একটা ভালো টুর্নামেন্ট উপহার দিতে পারি।’

সবশেষ গত বছরের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। যা ভারতের এই টুর্নামেন্টের নবম শিরোপা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছয়বার এশিয়া কাপ জিতেছে শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তান জিতেছে দুইবার। তবে বাংলাদেশ ২০১২, ২০১৬, ২০১৮ তিন এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। আর এখন পর্যন্ত ২০১৬, ২০২২ ও ২০২৫ এশিয়া কাপ হয়েছে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে। ২০২৭ সালে যেহেতু ওয়ানডে বিশ্বকাপ রয়েছে, সেক্ষেত্রে এশিয়া কাপ হতে পারে ওয়ানডে সংস্করণে।