ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইল বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর আসছে। ইসরাইলের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যেও এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজায় ব্যাপক হামলা চালায় ইসরাইল। এতে কার্যত পুরো উপত্যকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। নিহত হন ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ। আহতের সংখ্যা দুই লাখের বেশি। এ অবস্থায় উপত্যকার অর্ধেকের বেশি এলাকা দললে নিয়ে ফিলিস্তিনিদের উপকূলীয় ছোট্ট একটি এলাকায় তাঁবু ও আশ্রয়শিবিরে থাকতে বাধ্য করছে ইসরাইল। প্রায়ই ড্রোন ও বিমান হামলা চালানো হচ্ছে। শনিবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ গাজায় নতুন বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন। মানবাধিকার সংস্থা ও বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, গাজার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক অবস্থান নিয়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে।
সোমবার স্মোট্রিচ জানান, তার মন্ত্রণালয় উত্তর গাজায় তিনটি নতুন ইহুদি বসতির জন্য প্রশাসনিক ও পরিকল্পনাগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে পরবর্তী পদক্ষেপ দ্রুত নেওয়া হবে। এর পরদিন এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে গাজায় নতুন বসতি স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি সরাসরি নাকচ করেননি। তার এই অবস্থানকে ঘিরেই নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
২০০৫ সালে গাজা থেকে ২১টি বসতি সরিয়ে নিয়েছিল ইসরাইল। সেই সময় ইসরাইল অঞ্চলটি থেকে স্থায়ী সামরিক উপস্থিতিও প্রত্যাহার করে। প্রায় দুই দশক পর আবার সেখানে বসতি স্থাপনের বিষয়টি নতুন করে সামনে আসায় আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে অব্যাহতভাবে দখল বাড়াচ্ছে ইসরাইল। আলজাজিরার আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিম তীর এলাকায় নতুন করে আরও ১৩টি বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে দখলদার বাহিনী। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। এ পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, এ ধরনের বসতি সম্প্রসারণ ভূখণ্ডগত বিভাজনকে আরও গভীর করবে। ফলে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। ইসরাইলি সংবাদ মাধ্যম চ্যানেল ৭ জানিয়েছে, মন্ত্রিসভা বৃহস্পতিবার মধ্য পশ্চিম তীরের অন্যতম বৃহৎ বসতি এলাকা বিনিয়ামিন আঞ্চলিক পরিষদে নতুন বসতি নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। আগামী মাসগুলোতে প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে চার থেকে ছয়টি বসতি স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া বিদ্যমান বেশ কয়েকটি বসতি চৌকিকেও বৈধতা দেওয়া হবে। প্রায় ১ বিলিয়ন শেকেল বিনিয়োগে এ প্রকল্পের অর্থায়ন করা হবে। ফলে সংশ্লিষ্ট বসতিগুলো সরকারি তহবিল এবং রাস্তা, বিদ্যুৎ ও পানির মতো মৌলিক অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ পাবে।








