জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর এবং জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে সারা দেশে গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।

শনিবার (১ আগস্ট) দিনব্যাপী রাজধানীসহ দেশে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় এ গণমিছিল ও সমাবেশে করেন দলটির নেতাকর্মীরা।

জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

রাজশাহী

এই দাবিতে রাজশাহীতে গণমিছিল করেছে মহানগর জামায়াত। বিকেলে নগরীর নিউমার্কেট থেকে বের হওয়া মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শেষ হয়। সমাবেশে মহানগর আমির ও সংসদ সদস্য ড. মাওলানা কেরামত আলী গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়নের দাবি জানান। এ সময় নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিমসহ মহানগর জামায়াতের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজার

বিকেলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন কার্যালয় চত্বর থেকে গণমিছিল করে জেলা জামায়াত। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পেট্রোলপাম্প এলাকায় সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ নূর আহমদ আনোয়ারী বলেন, জুলাই আন্দোলন শুধু ক্ষমতার পালাবদলের জন্য হয়নি। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন, জুলাই সনদের আলোকে গণভোটের রায় কার্যকর এবং ফ্যাসিবাদী কাঠামোর পরিবর্তন করতে হবে।’

গাইবান্ধায়

এদিন বিকেলে গাইবান্ধায় জেলা জামায়াতের উদ্যোগে পৌর পার্ক শহীদ মিনার চত্বর থেকে গণমিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এর আগে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে জেলা আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য মো. আব্দুল করিম এমপি, জেলা রাজনৈতিক সেক্রেটারি মাওলানা নজরুল ইসলাম এমপিসহ জেলা নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার, শহীদদের যথাযথ মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং গণভোটে পাওয়া জনগণের রায় ও জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

চুয়াডাঙ্গা

একই দাবিতে বিকেলে চুয়াডাঙ্গা শহরের শহীদ আবুল হাসান চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও গণমিছিল করে জেলা জামায়াত। মিছিলটি শহীদ আবুল কাশেম সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাউন ফুটবল মাঠে গিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মো. রুহুল আমিন বলেন, দেশকে লুটপাট ও অর্থপাচারের দেশে পরিণত হতে দেওয়া হবে না। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ জনগণের দাবি এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে এর বাস্তবায়ন জরুরি।

গণমিছিলে জেলা, উপজেলা, পৌর ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

বগুড়া

একই দাবিতে এদিন বিকেলে বগুড়া শহরের নবাববাড়ী এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, গণভোটের রায় উপেক্ষা করা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তিনি দ্রুত গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানান।

সমাবেশ শেষে একটি গণমিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে দলীয় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। এতে মহানগর জামায়াত ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

মাগুরা

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে মাগুরায় গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। বিকেলে শহরের নোমানী ময়দানে সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ভায়নার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তারা দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বলেন, সনদ বাস্তবায়ন না হলে দেশের রাজনৈতিক সংকট ও বৈষম্য দূর হবে না। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কুষ্টিয়া-যশোর অঞ্চলের টিম সদস্য আব্দুল মতিন বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেই ঘরে ঢুকবো।’ জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক সাঈদ আহমেদ বাচ্চুও দ্রুত সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

বাগেরহাট

শনিবার বিকেলে বাগেরহাট শহরের মেঘনীতলা এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের জেলা জামায়াত। মিছিলটি নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দশানী এলাকায় পথসভায় মিলিত হয়।

পথসভায় বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, ফ্যাসিবাদ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার বিচার এবং গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

সিরাজগঞ্জ

বিকেলে সিরাজগঞ্জে গণমিছিল করেছে দলটির জেলা শাখার নেতাকর্মীরা। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দরগা রোডে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিলে জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শাহীনুর আলম বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি দাবি করেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

এ সময় জেলা ও শহর জামায়াত, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন এবং ছাত্রশিবিরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কেএইচকে/