আমের মতো কৌলীন্য নেই। অভিজাত মানুষের বাড়ির চৌকাঠ ডিঙানোর সাধ্য নেই তার। নেই আমের মতো মাতামাতি। তবু কাঁঠালের ওপর ভরসা রাখেন, নির্ভর করেন এ দেশের কোটি দরিদ্র মানুষ। সম্প্রতি এই ফল আলোচনায় এসেছে বিদেশি রাষ্ট্রের আগ্রহের কারণে। পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এই ফল খুলে দিতে পারে রপ্তানির নতুন দিগন্ত। গরিবের এই ফল কি এবার জাতে উঠতে পারবে?

বিধায়ক মুন্নালাল পাতেরিয়ার বাগান থেকে দুর্লভ জাতের দুটি কাঁঠাল রহস্যজনকভাবে চুরি হয়ে যায়। এ নিয়ে শহরে তোলপাড়। কাঁঠাল কে চুরি করল, তা নিয়ে শুরু হয় পুলিশের তদন্ত। ইন্সপেক্টর মহিমা বাসরের ওপর পড়ে তদন্তের ভার। বিধায়কের বাড়ির কাঁঠাল যদি নিরাপদ না থাকে, তবে আমজনতার সম্পদ কীভাবে রক্ষা পাবে—এ প্রশ্নও সামনে আসে। বিধায়ক কাঁঠাল উদ্ধারে সময় বেঁধে দেন। পত্রপত্রিকায় প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় অতি অনাদর আর অবহেলার এই ফল।

২০২৩ সালে নেটফিক্সে মুক্তি পাওয়া যশবর্ধন মিশ্র পরিচালিত ‘কাঁঠাল: আ জ্যাক ফ্রুট মিস্ট্রি’ সিনেমার গল্পের শুরুটা এ রকম। সানিয়া মালহোত্রা, অনন্ত ভি জোশি, বিজয় রাজ, রাজপাল যাদব ও রঘুবীর যাদব অভিনীত চলচ্চিত্রটিতে কাঁঠালের মতো মামুলি একটি ফলের রাজনীতি ও সমাজজীবনে ঢুকে পড়া দেখতে দেখতে অবাক হয়েছিলাম। এমন ‘ডার্ক কমেডি’ বাস্তবে না ঘটলেও কখনো কখনো আমাদের দেশেও রাজনীতির ময়দানে হালকা-পাতলা দেখা দিয়ে গেছে দশাসই ফলটি।

২০২২ সালের কথা। দেশে তখন দ্রব্যমূল্যের চরম ঊর্ধ্বগতির জন্য নাভিশ্বাস উঠছে মানুষের। সে সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (যিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন) কাঁঠাল নিয়ে জনগণকে নানা পরামর্শ দিয়ে আলোচিত হয়েছিলেন। ২০২২ সালের ১৯ ডিসেম্বর গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি কাঁচা কাঁঠালকে মাংসের বিকল্প হিসেবে খাওয়ার পরামর্শ দেন। মাংসের দাম কমাতে ব্যর্থতাকে স্বীকার না করে, কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা না দিয়ে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের এই পরামর্শ ভালোভাবে নেয়নি জনগণ। সে সময়কার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরে উঠেছিল কাঁঠালের মিমে। এভাবে ক্ষোভের নিচে চাপা পড়ে গিয়েছিল ‘সুপরামর্শটি’।

বিধাতা কবির আর্তি শুনে মানুষকে বর্ম না দিলেও কাঁঠালকে দিয়েছেন। সেই বর্ম ভেদ করে কাঁঠালের সরস মর্ম বোঝা ব্যস্ত নাগরিক জীবনে কঠিনই বটে। তাই কাঁঠাল বিব্রতকর ফল হয়েই রইল। অথচ বর্ম ভেদ করতে পারলে হাতে আঠা লাগার কষ্ট স্বীকার করে নিলে সাগর মন্থনের প্রয়োজন পড়বে না। সরস খাজা বা নরম গালা কাঁঠালের প্রতি কোয়াতেই মিলবে অমৃতের স্বাদ।

তবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী সে সময় যা বলেছিলেন, তা এই নতুন সরকারের আমলে আবারও নতুন করে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উচ্চারিত হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে এক অনুষ্ঠানে ফল মেলা উদ্বোধন করতে গিয়ে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদও কাঁঠালের গুণগান গেয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘কাঁঠাল দিয়ে কাবাব তৈরি হচ্ছে, চপ তৈরি হচ্ছে, পাকোড়া তৈরি হচ্ছে। এটা সত্যি প্রশংসনীয়। কাঁঠালের কাবাব বা কাঁঠালের সবজি ফুড ভ্যালুতে (পুষ্টিগুণে) কিন্তু অনেক হাই (উচ্চ)।’ কাঁঠালের রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়ে আশার কথাও জানিয়েছেন তিনি। কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ আমাদের সঙ্গে কথা বলছে, আমাদের থেকে কাঁঠাল নিয়ে এ ধরনের পণ্য তৈরি করতে চায় তারা।’ জানা গেছে, চীনও বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

‘কাঁঠাল, আ জ্যাক ফ্রুট মিস্ট্রি’ চলচ্চিত্রের পোস্টার

তবু কেন এত অবহেলা

শহুরে মধ্যবিত্তের ঘরে কাঁঠালের প্রবেশ তেমন ঘটে না বললেই চলে। অনেককে গর্ব করে বলতে শুনেছি, ‘কাঁঠাল আমি খেতেই পারি না।’ আবার অনেকের কাঁঠালের তীব্র ঘ্রাণেও আপত্তি। আম নিয়ে এত আদিখ্যেতা করা শহুরে লোকজন কেন কাঁঠাল দেখলেই নাক সিটকান? এটি কেন আজও আভিজাত্যের চৌকাঠ মাড়াতে পারল না—এ প্রশ্নের উত্তর নেই কারও কাছে। তবে চেহারায়, ঘ্রাণে আর খাওয়ার বিশেষ পদ্ধতির কারণেই হয়তো এমন অনীহা।

কবি শঙ্খ ঘোষের একটি কবিতার লাইন মনে পড়ে যাচ্ছে, তিনি লিখেছিলেন, ‘এত যদি ব্যূহ চক্র তীর তীরন্দাজ, তবে কেন/ শরীর দিয়েছ শুধু, বর্মখানি ভুলে গেছ দিতে!’ বিধাতা কবির আর্তি শুনে মানুষকে বর্ম না দিলেও কাঁঠালকে দিয়েছেন। সেই বর্ম ভেদ করে কাঁঠালের সরস মর্ম বোঝা ব্যস্ত নাগরিক জীবনে কঠিনই বটে। তাই কাঁঠাল বিব্রতকর ফল হয়েই রইল। অথচ বর্ম ভেদ করতে পারলে হাতে আঠা লাগার কষ্ট স্বীকার করে নিলে সাগর মন্থনের প্রয়োজন পড়বে না। সরস খাজা বা নরম গালা কাঁঠালের প্রতি কোয়াতেই মিলবে অমৃতের স্বাদ।

গাছ ভর্তি কাঁঠাল। বাজারে দাম নেই তাই গাছ থেকে পাড়তে অনিহা বাগানির। রাঙামাটির বন্দুকভাঙা গ্রামে গত শনিবার সকালে

ছোটবেলায় প্রতিবেশী কাঁঠালপ্রেমিক হারিস চাচার গল্পটা বলা দরকার। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির পাহাড়ি মাটিতে হওয়া লালচে রঙের খানিকটা শক্ত খাজা কাঁঠাল খাওয়ার স্মৃতিচারণা করতেন তিনি। বলতেন, ‘এখন আর পিওর খাজা কাঁঠাল পাওন যায় না।’ কচ কচ শব্দ হয় খেতে আর ভীষণ মিষ্টি বলে খাজা কাঁঠাল আমাদেরও পছন্দের ছিল। তবে বাড়ির পেছনে গাছে ধরত রসখাজা কাঁঠাল। এটি রসালো আবার খানিকটা শক্তও। মাঝেমধ্যে গালা কাঁঠাল বলে পরিচিত নরম কাঁঠাল আনা হলে আমরা খেতে চাইতাম না। মুড়ি মাখিয়ে খেতে হতো সে কাঁঠাল। কিন্তু হাত রসে ভরে যেত বলে অনীহা ছিল খেতে। মনে আছে, একবার বাড়ির পাকা ওঠানো দেড় হাত লম্বা এক কাঁঠাল ভাঙা হলো।

বড় বড় কোয়ার নরম গালা কাঁঠাল প্রায় একাই খেলেন হারিস চাচা। খাওয়া শেষে বিচি গুনতে গিয়ে দেখা গেল মাত্র ৬৫টি। অথচ কমপক্ষে ১০০–এর বেশি কোয়া হওয়ার কথা। তাহলে বিচি গেল কোথায়। লাজুক মুখে হারিস চাচা বলেছিলেন, ‘বেশি টেস্টি কাঁঠাল। একটু তাড়াহুড়া করে খাইতে গিয়া কয়েকটা বিচি ভিতরে গেসে গা।’

পুষ্টিবঞ্চিত বাংলাদেশের কৃষিজীবী ও দরিদ্র মানুষের একটা বড় অংশ গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালের তিন–চার মাস কাঁঠাল থেকে পুষ্টির চাহিদা মেটান। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোয় সকালের জলখাবারে পান্তাভাত আর কাঁঠাল জনপ্রিয় পদ। দেশের গ্রামীণ জনপদগুলোয় কাঁচা অবস্থায় কাঁঠালের এঁচড়ের ঘন্ট ও নিরামিষ তরকারি, পাকা কাঁঠালের মুড়িমাখা, কাঁঠালের বড়া ও পিঠা জনপ্রিয়। এসব বাদ দিলেও কাঁঠালের বিচির নানা পদ সারা বছরই খাওয়া হয়। শুঁটকি, সিদলের সঙ্গে বেটে ভর্তা, কচুর মুখি দিয়ে রান্না, এমনকি কষা মাংসের সঙ্গেও কাঁঠালের বিচি জমে যায়। সবকিছুর পর কাঁঠালে যা অবশিষ্ট থাকে, সেই ভুতি গবাদিপশুর খাবার। সুতরাং ফলটির কিছুই ফেলনা নয়।

পুষ্টিবঞ্চিত বাংলাদেশের কৃষিজীবী ও দরিদ্র মানুষের একটা বড় অংশ গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালের তিন–চার মাস কাঁঠাল থেকে পুষ্টির চাহিদা মেটায়। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোয় সকালের জলখাবারে পান্তাভাত আর কাঁঠাল জনপ্রিয় পদ। দেশের গ্রামীণ জনপদগুলোয় কাঁচা অবস্থায় কাঁঠালের এঁচড়ের ঘন্ট ও নিরামিষ তরকারি, পাকা কাঁঠালের মুড়িমাখা, কাঁঠালের বড়া ও পিঠা জনপ্রিয়। এসব বাদ দিলেও কাঁঠালের বিচির নানা পদ সারা বছরই খাওয়া হয়। শুঁটকি, সিদলের সঙ্গে বেটে ভর্তা, কচুর মুখি দিয়ে রান্না, এমনকি কষা মাংসের সঙ্গেও কাঁঠালের বিচি জমে যায়। সবকিছুর পর কাঁঠালে যা অবশিষ্ট থাকে, সেই ভুতি গবাদিপশুর খাবার। সুতরাং ফলটির কিছুই ফেলনা নয়।

অবাক করার মতো বিষয় হলো দেশি ফলগুলোর মধ্যে কাঁঠালে প্রোটিনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা কাঁঠালে প্রায় ১ দশমিক ৭ গ্রাম প্রোটিন রয়েছে। এর পাশাপাশি আছে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-৬, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, খাদ্য আঁশসহ নানা পুষ্টি উপাদান। কাঁঠালের বিচিতে প্রোটিন আরও বেশি। গ্রামীণ পরিবারে মাছ-মাংসের অভাব অনেক সময় এই বিচিই কিছুটা পূরণ করে। পুষ্টিবিদেরা বলেন, কাঁঠালের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এটি শক্তিদায়ক, আঁশসমৃদ্ধ এবং তুলনামূলক কম চর্বিযুক্ত একটি ফল। অর্থাৎ শুধু স্বাদ নয়, পুষ্টির দিক থেকেও কাঁঠাল গুরুত্বপূর্ণ।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে কাঁঠাল উৎপাদনের শীর্ষে রয়েছে ভারত। দেশটিতে প্রতিবছর কাঁঠালের উৎপাদন হয় ২০ লাখ মেট্রিক টন। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়েছে ১৮ লাখ ৩০ হাজার ১৩১ মেট্রিক টন কাঁঠাল। ৩০ জুন ২০২৬ সালে প্রকাশিত ‘কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষ গ্রন্থ ২০২৫’ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগেই কেবল উৎপাদন হয়েছে প্রায় দুই লাখ টন কাঁঠাল। তবে উৎপাদনে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে থাকার পরও কাঁঠাল ও কাঁঠালজাত পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে।

আমজনতার ফল

ফলের রাজা আম উপহার হিসেবে প্রতিবেশী দেশগুলোয় পাঠানোর রেওয়াজ দীর্ঘদিনের। প্রায় প্রতিটি সরকারই প্রতিবেশী নানা দেশে বাংলাদেশের সুস্বাদু আম উপহার হিসেবে পাঠান। আম দিয়ে কূটনীতির কাজ হলেও কাঁঠালের ভাগ্যে তা ঘটেনি। সে কপাল নিয়ে না জন্মালেও গরিবের দুঃখকষ্টে কাঁঠালই ভরসা, আম নয়।

বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতীয় উপমহাদেশের নানা দেশে কাঁঠালের ওপর সাধারণ মানুষের এ নির্ভরতা দেখা গেছে। ২০২২-২৩ সালে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক মন্দার সময় হাজারো মানুষ কাঁঠাল খেয়ে জীবন বাঁচিয়েছেন। ২০২৩ সালের ৮ জুলাই ‘শ্রীলঙ্কায় যেভাবে কাঁঠাল খেয়ে বেঁচে আছে প্রচুর মানুষ’ শিরোনামে নিতিন শ্রীবাস্তব ও সুনেথ পেরেরার লেখা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিবিসি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চরম আর্থিক দুর্দশায় পড়ে মানুষজন রুটি কিনতে না পেরে মানুষ কাঁঠাল খেয়েছেন। কাঁঠালে ভরসা করে বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষজনের বড় অংশও একইভাবে ক্ষুধা ঠেকিয়ে রেখেছে।

শক্ত কোয়ার খাজা কাঁঠাল

তুম ভি কাঁঠাল খায়া

কাবুলিওয়ালার কাঁঠাল খাওয়া নিয়ে জসিমউদ্‌দীনের গল্পটি সবার জানা। অনভিজ্ঞ বিদেশি মানুষটি কাঁঠালের গন্ধে, স্বাদে পাগল হয়ে কামড়ে কামড়ে খেয়েছিল। খেসারত হিসেবে বিসর্জন দিতে হয় তার দাড়ি, গোঁফ। তবে সেই কাবুলিওয়ালার জমানা এখন আর নেই। দাড়ি কামানো মানুষ দেখে এখন আর প্রশ্ন করার উপায় নেই, ‘তুম ভি কাঁঠাল খায়া?’ কারণ, দেশে দেশে বাড়ছে কাঁঠালের জনপ্রিয়তা। শোনা যাচ্ছে, বাংলাদেশের কাঁঠালের স্বাদ নিতে চায় চীনও। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল রপ্তানির বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। কাঁঠালের জনপ্রিয়তা বাড়ছে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রেও। সুতরাং রপ্তানি আয় বাড়ানোরও স্বপ্ন দেখাচ্ছে ফলটি। এই স্বপ্ন যে একেবারে অবাস্তব, তা–ও নয়। কারণ, কাঁঠাল উৎপাদনে বাংলাদেশ পৃথিবীর দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ। এ দেশের এমন কোনো গ্রাম জনপদ নেই, যেখানে কাঁঠালগাছ নেই।

বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশে কাঁঠালের ওপর সাধারণ মানুষের এই নির্ভরতা দেখা গেছে। ২০২২-২৩ সালে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক মন্দার সময় হাজারো মানুষ কাঁঠাল খেয়ে জীবন বাঁচিয়েছেন। ২০২৩ সালের ৮ জুলাই ‘শ্রীলঙ্কায় যেভাবে কাঁঠাল খেয়ে বেঁচে আছে প্রচুর মানুষ’ শিরোনামে নিতিন শ্রীবাস্তব ও সুনেথ পেরেরার লেখা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিবিসি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চরম আর্থিক দুর্দশায় পড়ে মানুষজন রুটি কিনতে না পেরে মানুষ কাঁঠাল খেয়েছেন। কাঁঠালে ভরসা করে বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষজনের বড় অংশও একইভাবে ক্ষুধা ঠেকিয়ে রেখেছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে কাঁঠাল উৎপাদনের শীর্ষে রয়েছে ভারত। দেশটিতে প্রতিবছর কাঁঠালের উৎপাদন হয় ২০ লাখ মেট্রিক টন। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়েছে ১৮ লাখ ৩০ হাজার ১৩১ মেট্রিক টন কাঁঠাল। ৩০ জুন ২০২৬ সালে প্রকাশিত ‘কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষ গ্রন্থ ২০২৫’ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগেই কেবল উৎপাদন হয়েছে প্রায় দুই লাখ টন কাঁঠাল। তবে উৎপাদনে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে থাকার পরও কাঁঠাল ও কাঁঠালজাত পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত রপ্তানি করেছে ২৬ হাজার ৬৬০ মেট্রিক টন কাঁঠাল। বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে মাত্র ২ হাজার ৮১ মেট্রিক টন।

উৎপাদনে ভারত বা বাংলাদেশের কাছাকাছি না থেকেও থাইল্যান্ড বছরে প্রায় ৭৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাঁঠাল ও কাঁঠালজাত পণ্য রপ্তানি করে। কারণ, তারা কাঁঠালকে শুধু ফল হিসেবে বিক্রি করে না, তারা বিক্রি করে চিপস, হিমায়িত কোয়া, ভেজিটেবল মিট, ক্যানজাত পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাবার হিসেবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার না বাড়ায় এর রপ্তানি বাড়ছে না। কাঁঠাল থেকে চিপস, আচার, জেলিসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরি করতে হবে। তবেই বাড়বে রপ্তানি।

চট্টগ্রামের লইট্টা মাছ যেভাবে বিলেত জয় করল