বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন ছাড়া দৈনন্দিন জীবন কল্পনা করা কঠিন। কাজ, পড়াশোনা, যোগাযোগ থেকে শুরু করে বিনোদন সবকিছুর কেন্দ্রেই এখন স্মার্টফোন। বিশেষ করে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব বা টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে ছোট ভিডিও ও রিলস দেখার অভ্যাস অনেকেরই দৈনন্দিন রুটিনে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই অভ্যাস দীর্ঘদিন চলতে থাকলে বুড়ো আঙুলে ব্যথা বা ‘স্মার্টফোন থাম্ব’ নামে পরিচিত একটি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কেন হয় এই সমস্যা?

স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় সবচেয়ে বেশি কাজ করে বুড়ো আঙুল। বারবার স্ক্রল করা, দ্রুত টাইপ করা কিংবা বড় আকারের ফোন এক হাতে ধরে ব্যবহার করার ফলে বুড়ো আঙুলের জয়েন্ট, পেশি ও টেনডনের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। দীর্ঘদিন একই ধরনের নড়াচড়া চলতে থাকলে টেনডনে প্রদাহ, ব্যথা এবং চলাচলে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন

হোটেল রুমে গোপন ক্যামেরা আছে কি না বুঝবেন যেভাবে

যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন

শুরুতে অনেকেই বিষয়টিকে সাধারণ ব্যথা ভেবে গুরুত্ব দেন না। তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে সতর্ক হওয়া উচিত—

  • বুড়ো আঙুলে ব্যথা বা অস্বস্তি
  • আঙুল বা জয়েন্টে ফোলাভাব
  • আঙুল শক্ত বা জড় হয়ে যাওয়া
  • আঙুল নাড়ানোর সময় ‘ক্লিক’ বা ‘টিক’ ধরনের শব্দ হওয়া
  • কোনো জিনিস শক্ত করে ধরতে অসুবিধা
  • বুড়ো আঙুল বাঁকাতে বা প্রসারিত করতে কষ্ট হওয়া

এসব লক্ষণ দীর্ঘদিন অবহেলা করলে সমস্যা আরও জটিল হতে পারে। তাই প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কীভাবে ঝুঁকি কমাবেন?

কিছু সাধারণ অভ্যাস বদলালেই এই সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

  • টানা ২০-৩০ মিনিট ফোন ব্যবহারের পর অন্তত ২-৫ মিনিট বিরতি নিন।
  • সম্ভব হলে এক হাতের বদলে দুই হাতে ফোন ধরুন।
  • দীর্ঘ সময় ধরে চ্যাটিং বা মোবাইল গেম খেলা এড়িয়ে চলুন।
  • স্ক্রল করার সময় শুধু বুড়ো আঙুল ব্যবহার না করে মাঝে মাঝে অন্য আঙুলও ব্যবহার করুন।
  • প্রয়োজন হলে ভয়েস টাইপিং বা স্টাইলাস ব্যবহার করতে পারেন।
  • বড় স্ক্রিনের ফোন এক হাতে দীর্ঘক্ষণ ব্যবহার না করাই ভালো।
আরও পড়ুন

সোশ্যাল মিডিয়ায় কেইন ইয়ামালের অনুসারী কত জানেন?

সহজ কিছু ব্যায়াম

বুড়ো আঙুল ও কবজির হালকা ব্যায়াম পেশির চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

  • বুড়ো আঙুল ধীরে ধীরে সামনে-পেছনে নাড়ান।
  • গোল করে কয়েকবার ঘুরিয়ে নিন।
  • হাতের তালু খুলে পাঁচটি আঙুল যতটা সম্ভব ছড়িয়ে ৫-১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন।
  • কবজি ধীরে ধীরে দুই দিকে ঘোরান।
  • দিনে দুই থেকে তিনবার এসব ব্যায়াম করলে আঙুলের নমনীয়তা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

যদি কয়েক দিন বিশ্রাম নেওয়ার পরও ব্যথা না কমে, ফোলাভাব বাড়তে থাকে, আঙুল নাড়াতে কষ্ট হয় বা হাতের শক্তি কমে যায়, তাহলে দ্রুত একজন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ বা হ্যান্ড থেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ দীর্ঘদিন অবহেলা করলে টেনডনের প্রদাহ বা অন্যান্য জটিল সমস্যা তৈরি হতে পারে।

কেএসকে