স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের রাতটি শুধু লামিন ইয়ামালের ক্যারিয়ারের জন্যই নয়, তার প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া সান্তোসের জীবনেও এনে দিয়েছে বড় পরিবর্তন। ফাইনাল শেষে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের নজর যখন স্পেনের শিরোপা উদ্‌যাপনে, তখন ক্যামেরার সামনে বারবার দেখা যায় ২১ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ মডেল ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে। আর সেই রাতের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেন শুরু হয় ইনেসকে খোঁজার হিড়িক।

মাত্র এক রাতেই ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা বেড়েছে ১৪ লাখ। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে যেখানে ইনেসের ফলোয়ার ছিল প্রায় ১০ লাখ, সেখানে স্পেনের শিরোপা জয়ের ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সেই সংখ্যা পৌঁছে যায় ২৪ লাখে।

আরও পড়ুন

সোশ্যাল মিডিয়ায় কেইন ইয়ামালের অনুসারী কত জানেন?

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পর মাঠে নেমে উদ্‌যাপনে যোগ দেন ইনেস। কখনো ইয়ামালের চুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন, কখনো মজা করে তার দিকে টিস্যু ছুড়ে দিচ্ছেন, আবার ভালোবেসে চুমু খাচ্ছেন-এমন মুহূর্তগুলো ক্যামেরায় ধরা পড়তেই দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় যান ইনেস।

ফুটবলপ্রেমীরা জানতে শুরু করেন, এই তরুণী কে? খুব দ্রুতই জানা যায়, তিনিই ইয়ামালের দীর্ঘদিনের প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া সান্তোস। আসুন ইনেসের ব্যাপারে আরও কিছু তথ্য জেনে নেওয়া যাক-

স্পেনের সেভিলে জন্ম নেওয়া ইনেস গার্সিয়া সান্তোস পেশায় একজন মডেল ও ফ্যাশন-লাইফস্টাইল ইনফ্লুয়েন্সার। ফ্যাশন, ত্বকের যত্ন, ভ্রমণ এবং দৈনন্দিন জীবন নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করেই তিনি আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন। তবে সেই জনপ্রিয়তা মূলত স্পেনকেন্দ্রিক ছিল। বিশ্বকাপের পর সেই পরিচিতি ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে।

ইয়ামালের সঙ্গে পরিচয় যেভাবে

জানা যায়, ২০২৪ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই প্রথম পরিচয় হয় দুজনের। ইয়ামালই প্রথম ইনেসকে ইনস্টাগ্রামে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব, পরে প্রেম। ২০২৬ সালের এপ্রিলে গ্রিসে একসঙ্গে ছুটি কাটানোর ছবি প্রকাশ হওয়ার পর তাদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। পরে বার্সেলোনার একটি উদ্‌যাপন অনুষ্ঠান এবং একটি কনসার্টে একসঙ্গে দেখা গেলে সম্পর্কের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন

লাইক-কমেন্টের যুগে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নেই বিশ্বসেরা রদ্রির

প্রথম গোলের উৎসর্গও ছিল ইনেসের জন্য

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে সৌদি আরবের বিপক্ষে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোল করার পর ইয়ামাল ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, গোলটি তিনি উৎসর্গ করছেন তার মা, প্রেমিকা, বন্ধু এবং নিজের শহরের মানুষদের। সেই মন্তব্যের পর থেকেই ইনেসকে নিয়ে ভক্তদের কৌতূহল আরও বেড়ে যায়।

বিশ্বকাপজয়ের পর আবেগঘন বার্তা

স্পেন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ইনেস নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইয়ামালকে অভিনন্দন জানিয়ে লেখেন, তুমি পেরেছ। অভিনন্দন, আমার ভালোবাসা। অভিনন্দন, আমার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন!। এই পোস্টও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে লাখ লাখ মানুষ দেখেছেন এবং শেয়ার করেছেন।

বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো আসরে খেলোয়াড়দের পরিবার ও কাছের মানুষদের প্রতিও দর্শকদের আগ্রহ থাকে। ইয়ামাল পুরো টুর্নামেন্টে অন্যতম আলোচিত তারকা হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়। ফাইনালের উদ্‌যাপনের ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর লাখো মানুষ ইনেসের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল খুঁজে বের করেন। ফলাফল ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে ১৪ লাখ নতুন অনুসারী। বিশ্বকাপের দুইদিন পর ইনেসের ইনস্টাগ্রাম অনুসারী এখন ৩৬ লাখের বেশি।

কেএসকে