টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত দেশের বেশ কিছু অঞ্চল। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, সিলেট, হবিগঞ্জসহ দেশের বেশ কিছু জেলা বন্যার কবলে পড়ে বিপর্যস্ত স্থানীয় বাসিন্দারা। কোনো কোনো অঞ্চলের মরদেহ কবর থেকে উঠে বন্যার পানিতে ভাসছে। সরকারিভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন শোবিজ অঙ্গনের তারকারা।
ছোট ও বড়পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট দিয়েছেন। তাতে এই অভিনেত্রী বলেন, “বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত সকল মানুষের জন্য আন্তরিক দোয়া রইল। এই কঠিন সময়ে যারা নিজেদের প্রিয়জন, ঘরবাড়ি বা জীবিকার ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন, আল্লাহ যেন তাদের ধৈর্য ও শক্তি দান করেন। যারা উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিরলস পরিশ্রম করছেন, তাদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।”
বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে মেহজাবীন চৌধুরী বলেন, “আসুন, আমরা সবাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াই। আশা করি, খুব শিগগির পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং সবাই নিরাপদে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। আল্লাহ বাংলাদেশকে হেফাজত করুন।”
ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ চট্টগ্রামের ছেলে। নিজ অঞ্চল বন্যার কবলে পড়েছে। তা স্মরণ করে এই অভিনেতা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়েছেন। ইরফান সাজ্জাদ বলেন, “আমার চট্টগ্রাম ভালো নাই! বাঁশখালী, সাতকানিয়া, চকরিয়া লোহাগাড়া, কক্সবাজার, বান্দরবান ভালো নাই! অথচ মেজর কোনো নিউজ নাই! কোনো আওয়াজ নাই। মানুষগুলো নীরবে মরে যাচ্ছে, কষ্ট পাচ্ছে, কবর থেকে লাশ ভেসে যাচ্ছে!”
২০২৪ সালের আগস্টে বন্যার কবলে পড়ে দেশের আটটি জেলা। তখন চট্টগ্রামের মানুষ সহযোগিতার হাতি বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তা স্মরণ করে ইরফান সাজ্জাদ বলেন, “কুমিল্লা, নোয়াখালি, ফেনীর বন্যার সময় এই চট্টগ্রামের মানুষজন যার যা কিছু ছিল তা নিয়ে তাদের উদ্ধার করতে গিয়েছিল! আজকে এই বন্যা পীড়িত মানুষগুলোকে উদ্ধারে মানুষের তেমন কোনো সাড়াশব্দ নাই, কোনো আওয়াজ নাই। আল্লাহ আপনি রহম করেন।”
বন্যার্তদের কঠিন পরিস্থিতি উল্লেখ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়েছেন ছোটপর্দার দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনী। এ অভিনেত্রী বলেন, “চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, সিলেট, হবিগঞ্জসহ দেশের ৭+ জেলা এখন পানির নিচে। হাজারো ঘর-বাড়ি তলিয়ে গেছে। মানুষ ছাদে, আশ্রয়কেন্দ্রে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। আমরা যারা ভালো আছি, আমাদের দায়িত্ব তাদের পাশে দাঁড়ানো। ১ প্যাকেট শুকনো খাবার, ১ বোতল পানি অনেক বড় সাহায্য হতে পারে।”
বন্যার্তদের সাহার্য করার আহ্বান জানিয়ে তটিনী বলেন, “ভালো আশ্রয়স্থলে স্থান নিন এবং অন্যকে যতটুকু সম্ভব সাহায্য করুন। আল্লাহ বন্যাদুর্গত সবাইকে হেফাজত করুন। আমিন।”








