যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি মে মাসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। মাসটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ০৪ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ৫৮২ মিলিয়ন ডলারে।
তবে বছরের প্রথম পাঁচ মাসের চিত্র এখনো নেতিবাচক। জানুয়ারি-মে ২০২৬ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ কমে ৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা)।
আরও পড়ুন
অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি কমেছে ৪.২৫ শতাংশ
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ (ভলিউম) ৬ দশমিক ২১ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে গড় ইউনিট মূল্যও কমেছে ২ শতাংশ। ফলে কম পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত কম দামে বিক্রির প্রভাবও পড়েছে রপ্তানি আয়ে।
বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা দুর্বল থাকায় ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমতে থাকে। তবে এ সময় প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে ক্রয়-উৎসে (সোর্সিং) উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত মিলেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে ২৮ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
একই সময়ে আমদানির পরিমাণ (ভলিউম) ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ কমেছে। তবে গড় ইউনিট মূল্য শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়েছে। এতে বোঝা যায়, আমদানি কমার প্রধান কারণ ছিল ক্রয়ের পরিমাণ হ্রাস।
আরও পড়ুন
চ্যালেঞ্জের বছরেও যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেড়েছে, ধীরগতিতে তৈরি পোশাক
প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে কম্বোডিয়া সবচেয়ে ভালো করেছে। দেশটির রপ্তানি মূল্য বেড়েছে ১৪ দশমিক ৯০ শতাংশ।
ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের রপ্তানি বেড়েছে ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। একই সঙ্গে ভিয়েতনামের রপ্তানির পরিমাণও ৩ দশমিক ০১ শতাংশ বেড়েছে।
প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে চীনের পতন ছিল সবচেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির পোশাক রপ্তানি ৪২ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ২৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং গড় ইউনিট মূল্য ১৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ কমেছে।
এছাড়া ভারতের রপ্তানি কমেছে ২৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং পাকিস্তানের ১২ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
আরও পড়ুন
বাংলাদেশকে টপকে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় ভিয়েতনাম
ওটেক্সার তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা ধীরে ধীরে চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছেন। এ পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছে কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম।
যদিও জানুয়ারি-মে সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানি চাপের মধ্যেই ছিল, তবে মে মাসের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হলে রপ্তানি পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আইএইচও/এএসএ








