রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। দিনের বেশিরভাগ সময় চুলায় গ্যাস না থাকায় রান্না করতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসাবাড়ির বাসিন্দারা।

বিশেষ করে গৃহিণীদের পড়তে হচ্ছে সবচেয়ে বেশি বিপাকে। বাধ্য হয়ে অনেকে বৈদ্যুতিক হিটার, রাইস কুকার কিংবা অন্যান্য বিকল্প ব্যবস্থায় রান্না করছেন। এতে একদিকে যেমন সময় ও ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিলও বাড়ছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোর থেকে শুরু করে দিনের বিভিন্ন সময়ে গ্যাসের চাপ অত্যন্ত কম থাকছে। অনেক এলাকায় দীর্ঘ সময় চুলায় গ্যাস না থাকায় রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। কোথাও কোথাও সামান্য গ্যাস এলেও তা দিয়ে ঠিকমতো চুলা জ্বলছে না।

আরও পড়ুন

গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি, সংকট কাটছে না দ্রুত

এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে অনেক পরিবার বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার করছেন। এতে গ্যাসের সংকট সাময়িকভাবে সামাল দেওয়া গেলেও বাড়ছে বিদ্যুৎ বিল। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এই বাড়তি খরচ নতুন করে আর্থিক চাপ তৈরি করছে।

রাজধানীর মিরপুর এলাকার বাসিন্দা সাবিনা আক্তার বলেন, সকালে রান্না করতে গিয়ে দেখি চুলায় গ্যাস নেই। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও গ্যাস না আসায় বাধ্য হয়ে হিটারে রান্না করেছি। প্রতিদিন এভাবে রান্না করলে বিদ্যুৎ বিল অনেক বেড়ে যাবে। গত এক সপ্তাহ ধরে এই অবস্থা। আগে তো একটু আধটু গ্যাস পেতাম এখন লাইনে তাও পাচ্ছি না।

বাড্ডার বাসিন্দা রুবিনা ইয়াসমিন বলেন, গ্যাসের সংকট হলেই এলোমেলো হয়ে যায় পুরো সংসার। হিটারে রান্না করতে সময়ও বেশি লাগে, খরচও বেশি। গ্যাসের বিল দেওয়ার পর আবার বিদ্যুতের বিলও বাড়ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী বাসিন্দারা বলছেন, গ্যাস সংকট এখন আর সাময়িক অসুবিধার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে। অনেকেই সকালে রান্না করতে না পেরে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) কারিগরি সমস্যার কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এতে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহক গ্যাস সংকটে পড়েছেন।

এদিকে শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের এলএনজি ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, এফএসআরইউ কবে নাগাদ ঠিক হচ্ছে সেটি এখনও বলতে পারছি না। বিদেশি প্রকৌশলীরা এসেছেন তারা কাজ করছেন। আগামীকাল নাগাদ প্রেস ব্রিফিং করে বিস্তারিত জানানো হতে পারে। এই মুহূর্তে ঠিকঠাক করে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

এনএস/এমআরএম