রংপুরের বদরগঞ্জে অবৈধ স’মিলের রাজত্বে বনের গাছ উজাড় হচ্ছে দেদার। প্রতিদিন সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে স’মিলে নিয়ে যাচ্ছে বনদস্যুরা। তারা ইতোমধ্যে সামাজিক বন বিভাগের ২ হাজার একর বনভূমি দখলে নিয়েছে। এই উপজেলার ৪৫টি স’মিলের মধ্যে অবৈধভাবে চলা ৪৩টি চলছে এসব গাছ দিয়ে। তবে অদৃশ্য কারণে বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

নাম প্রকাশে লোহানীপাড়া বন বিটের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সামাজিক বন বিভাগের জনবল সংকটের কারণে বনদস্যুরা রাতের আঁধারে সংরক্ষিত বনের বড় বড় আকাশমনি, সেগুন, শালসহ নানা প্রজাতির গাছ কেটে ফসলের জমিতে রূপান্তর করে আবাদ করছে। এ কারণে বিলুপ্তের পথে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির বন বিভাগের জমি ও মূল্যবান গাছ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লোহানীপাড়া বন বিট কার্যালয় থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার পশ্চিমে রয়েছে বিষ্ণুপুর মৌজায় ওপারের ডাঙা সংরক্ষিত বনাঞ্চল। সেই বনের গাছ কেটে আবাদি জমি তৈরি করে সেখানে ফসলের চাষাবাদ করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। বন বিভাগের গাছগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অবৈধ স’মিলে। সেখানে কাঠে রূপান্তর করে বিক্রি করা হচ্ছে। চক্রের একাধিক সদস্য এই প্রতিবেদককে বলেন, উপজেলার কুতুবপুর গাছুয়াপাড়া গ্রামের শাহিন, নাগেরহাট এলাকার রোস্তম আলী এবং মিঠাপুকুরের কসবা গ্রামের মুকুলসহ ১৫-২০ জনের সংঘবদ্ধ দল বিট কর্মকর্তা মজিবুর রহমানের সঙ্গে সখ্য তৈরি করে রাতে বনের গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলার ৪৫ স’মিলের মধ্যে ৪৩টির লাইসেন্স নেই-এ বিষয়ে উপজেলা বন বিট কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বলেন, মিল মালিকদের লাইসেন্সের জন্য বারবার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। দস্যুদের কাজ কাটা নিয়ে তিনি বলেন, এই সামাজিক বন বিভাগের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র একজন কর্মচারী। জনবল সংকটের কারণে রাতের অন্ধকারে বড় বড় গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে দস্যুরা। বনের কাছে স’মিলের বিষয়ে তিনি বলেন, বনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোট স’মিল স্থাপন করা যাবে না আইন থাকলেও ২ থেকে ৪ কিলোমিটারের মধ্যে এসব স’মিল গড়ে উঠেছে। প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও কাজ হয়নি।

সরেজমিন দেখা গেছে, বিষ্ণুপুর দলুয়া খাগড়াবন্ধ এলাকার ওপারের ডাঙায় সংরক্ষিত বনাঞ্চল, পাঁচ পীরের মাজার, হালা বটেরতল, বিচিবাড়ী হাট, ওসমানপুরে গাছ কেটে আবাদ করা হয়েছে। বনের গাছ কাটায় মামলা হলেও ওই ভূমি ছাড়েনি দখলদাররা। স’মিল মালিক মধুপুর ইউনিয়নের উত্তর ভাউচন্ডী কাজীপাড়ার এমদাদুল হক, ময়নাকুড়ির মনিরুজ্জামান, আব্দুর রাজ্জাক, গোপালপুর ইউনিয়নের মেঘনা স’মিলের মালিক হুমায়ুন কবির বুলু, লোহানীপাড়ার সাদেক আলী, মমিনুল ইসলাম, আজাদ মিয়া বলেন, বন বিভাগ অফিস থেকে লাইসেন্সের জন্য নোটিশ পেয়েছি। কিন্তু অনেক জটিলতার কারণে আবেদন করতে পারিনি।

বদরগঞ্জের ইউএনও আনজুমান সুলতানা বলেন, বন বিভাগ তদন্ত করে দেখবে কোনটা বৈধ, কোনটা অবৈধ। তবে অবৈধভাবে চলা স’মিলগুলোর বিরুদ্ধে বন বিভাগ সহযোগিতা চাইলে উচ্ছেদে সহযোগিতা পাবে।