আগামী ১৯ জুলাই নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনাল। হেক্সা স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে সেই মাঠেই আজ অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে ব্রাজিলকে। বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে আর্লিং হলান্ডের নরওয়ের মুখোমুখি হচ্ছে রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ফুটবল ঐতিহ্যে দুদেশের অবস্থান দুই মেরুতে হলেও ফর্মের অধারাবাহিকতা ও চোটের মিছিল মিলিয়ে ব্রাজিলই এবার চাপে। হ্যামিস্ট্রংয়ের চোটে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা লুকাস পাকেতা। ফরোয়ার্ড রাফিনিয়াও চোট নিয়ে মাঠের বাইরে। চোটের সঙ্গে লড়াইয়ে জিতে মাঠে ফিরলেও নিয়মিত খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না মহাতারকা নেইমার। ওদিকে প্রতিপক্ষ শিবিরে আছেন হলান্ড নামের গোলমেশিন। তিন ম্যাচে পাঁচ গোল করা এই ম্যানসিটি তারকাকে থামাতে না পারলে নরওয়ের ‘জলদস্যুদের’ হাতে ‘খুন’ হয়ে যেতে পারে ব্রাজিলের হলুদ স্বপ্ন।

শেষ বত্রিশে জাপানের বিপক্ষে শুরুতে পিছিতে পড়া ব্রাজিল অঘটন এড়িয়েছিল ‘সুপার সাব’ গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির শেষ মুহূর্তের গোলে। প্রথমার্ধের ছন্নছাড়া ব্রাজিল স্বরূপে ফেরে দ্বিতীয়ার্ধে। আজ সেলেসাওদের কোন রূপে দেখা যাবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। দারুণ সব পাসে হলান্ডকে গোলের জোগান দেন মার্টিন ওডেগার্ড। হলান্ডকে আটকাতে সবার আগে তাই মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে ব্রাজিলকে। এখানেই যত শঙ্কা। ব্রাজিলের হোল্ডিং মিডফিল্ডার কাসেমিরো প্রায়ই প্রতিপক্ষের গতিময় খেলোয়াড়দের সঙ্গে ডুয়েলে পরাস্ত হয়ে বিপদে ফেলেন দলকে। জাপানের বিপক্ষে সমতাসূচক গোল করলেও প্রথমার্ধে কাসেমিরোর ভুলেই গোল খেয়েছিল ব্রাজিল। আক্রমণভাগেও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ছাড়া আর কেউ ধারাবাহিক নন। কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, নেইমার এখন পুরো ৯০ মিনিট খেলতে প্রস্তুত। জাপানের বিপক্ষে খেলার সুযোগ না পেয়ে হতাশ হলেও নিজেকে নতুন করে প্রমাণে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছেন ৩৪ বছর বয়সি সান্তোস ফরোয়ার্ড। তবে আজও শুরুর একাদশে নেইমারের জায়গা নিশ্চিত নয়। বর্তমানের পাশাপাশি অতীতও ভয় দেখাচ্ছে ব্রাজিলকে। ২০০২ আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে ইউরোপের কোনো দলকে হারাতে পারেনি তারা। এছাড়া ব্রাজিলের বিপক্ষে একাধিক ম্যাচ খেলে কখনো না-হারা বিরল দলগুলোর একটি নরওয়ে। ব্রাজিলের বিপক্ষে আগের চার ম্যাচের দুটি জিতেছে নরওয়ে। অপর দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। এর মধ্যে আছে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে ২-১ গোলের সেই বিখ্যাত জয়। ওই আসরের ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে আবার সেই ব্রাজিলের সামনে নরওয়ে। এবারও নরওয়ের জয় দেখছেন ২৮ বছর আগের সেই জয়ের নায়ক রেকডাল, ‘রোববার সব চাপ থাকবে ব্রাজিলের ওপর। নিজেদের ব্রাজিলের সমকক্ষ ভাবার বিশ্বাসের জন্য অতীতে তাকানোর প্রয়োজন নেই হলান্ড, ওডেগার্ডদের। ইউরোপের ক্লাব ফুটবল থেকেই তারা বিশ্বাসের রসদ পেয়ে গেছে। আমার বিশ্বাস, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে। নরওয়ে জিতবে ২-১ গোলে।’

রেকডালের ভবিষ্যদ্বাণী সঠিক হলে তা হবে ব্রাজিলের জন্য মহাবিপর্যয়। বিষয়টি মাথায় রেখে সেলেসাওদের ইতালিয়ান কোচ আনচেলত্তি বলেছেন, ‘নরওয়ে সুগঠিত দল। তবে ভালো খেলে জয়ের ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী। যে কোনো পরিস্থিতির জন্য আমরা প্রস্তুত থাকব। শুরুতে গোল খেলেও ঘুরে দাঁড়ানোর বিশ্বাস হারাবে না দল।’