ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ৩ জুলাই ঘোষণা করেন-হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও ওমান সালতানাত একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। শনিবার শুরু হওয়া প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ শ্রদ্ধায় যোগ দিতে আসা চীনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকের সময় তিনি এ ঘোষণা দেন।

শনিবার দ্য ক্র্যাডলের প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। গালিবাফ বলেন, কয়েক দিন আগে ওমান সফরের সময় সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে আমরা সামুদ্রিক নৌ-চলাচল ব্যবস্থাপনার বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছি। তিনি বলেন, তেহরান ও মাসকাট ‘এটি বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং আমরা অবশ্যই পারস্য উপসাগরীয় উপকূলবর্তী দেশগুলোর সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা করব।’

গালিবাফ বলেন, ইসরাইলিরা নিঃসন্দেহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সমঝোতাকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে। তবে এ অঞ্চলে ইরানের প্রতিরোধ সক্ষমতা তাদের নতুন করে যুদ্ধ উসকে দেওয়া থেকে বিরত রাখবে। একই সঙ্গে, একটি সুপরিকল্পিত কৌশল ও সতর্ক রাজনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে আমাদের এ উত্তেজনা কমিয়ে আনতে হবে।’ গালিবাফ বেইজিং-তেহরান সম্পর্কের প্রশংসা করেন এবং প্রয়াত নেতার আসন্ন শেষকৃত্যানুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য চীনা কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে চীনের জাহাজের চলাচলে যেসব সমস্যা ছিল আমরা তা সমাধান করেছি। কারণ, কঠিন সময়ে চীন আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান ‘এ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হস্তক্ষেপ বরদাশত করবে না।’ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার প্রেক্ষিতে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বাড়তে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মাথাব্যথায় পরিণত হয় হরমুজ। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার বিষয়টি। এ প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে যৌথভাবে কীভাবে এ প্রণালি পরিচালনা করা হবে, সে বিষয়ে তেহরান ও মাসকাট আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল। ওমান ও আঞ্চলিক অন্যান্য রাষ্ট্রের সম্ভাব্য সহযোগিতায় ইরানের এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পরিচালনার বিষয়টি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) একটি আনুষ্ঠানিক শর্ত হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। গত মাসের শেষের দিকে ওমান ঘোষণা করে, তারা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর সামুদ্রিক ‘সেবা ফি’ আরোপের বিষয়ে ইরানের প্রস্তাবকে সমর্থন করে।

হরমুজ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ওমানের মধ্যে একটি জাহাজ চলাচল করিডর চালুর সাম্প্রতিক ঘোষণার পর বিষয়টি সামনে আসে; তেহরান এই পদক্ষেপকে সমঝোতা স্মারকের ৫ নম্বর ধারার লঙ্ঘন বলে বর্ণনা করেছে। তেহরান বারবার দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ অবরোধ এবং এ জলপথের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও প্রণালিটি যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না। ২ জুলাই এক বিবৃতিতে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধান আলোচক কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, হরমুজ ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ড সেন্টকমের অধীনে নয়। এর কয়েক সপ্তাহ আগে, তেহরান ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’ গঠনের ঘোষণা দেয়। এটি হরমুজ প্রণালি পরিচালনার বিষয়টি তদারকির জন্য একটি নতুন সংস্থা।

লেবাননে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করা, সম্পদ অবমুক্ত করা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অবৈধ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং ইরান ও ওমানের যৌথ ব্যবস্থাপনায় হরমুজ পরিচালনাসহ ইরানের প্রায় সব দাবিই সমঝোতা স্মারকে অন্তর্ভুক্ত করতে ওয়াশিংটন সম্মত হয়েছে। ওই সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ ৬০ দিনের। এর মধ্যেই দুই পক্ষ একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে উপনীত হবে। কিন্তু এর মধ্যে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর একাধিক হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি লেবাননে ইসরাইলের জাতিগত নির্মূল ও দখলদারত্বের নৃশংস অভিযানও চলছে।