ফরিদপুরে প্রায় চার বছর আগে ইজিবাইক চালক মো. নাঈম শেখ (১৫) নামে এক কিশোরকে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। এসময় নাঈমের মরদেহ মাটি চাপা দিয়ে ইজিবাইক ছিনতাই করেন অভিযুক্তরা।
এ অপরাধে আসামিদের জরিমানা অনাদায়ে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। মামলার অপর এক ধারায় তাদের তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্ত ওই দুই ব্যক্তি দুটি ধারায় দেওয়া এ রায়ের সাজা একসঙ্গে ভোগ করতে পারবেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর দুইটার দিকে ফরিদপুর পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) অশোক কুমার দত্ত এ রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। তারা হলেন, ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের লোকমানখার ডাঙ্গী গ্রামের আছমত শেখ (২৩) ও সাগর মোল্লা (৩২)। রায় ঘোষণার পর পুলিশ পাহারায় তাদেরকে জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
নিহত ইজিবাইক চালক মো. নাঈম শেখ ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের গোয়ালের টিলা গ্রামের বাসিন্দা মো. সামসু শেখের ছেলে।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, নাঈম শেখ ২০২২ সালের ২১ এপ্রিল সকাল নয়টার দিকে তার চালিত ইজিবাইক নিয়ে যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। পরে সারাদিন পর সন্ধ্যায়ও বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন তার মোবাইলে ফোন করেন। সেটি বন্ধ পাওয়া গেলে চারদিকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। এতে নাঈমের কোনো খোঁজ মেলে না। পরদিন ২২ এপ্রিল ভোর ছয়টার দিকে লোকমানখার ডাঙ্গী গ্রাম থেকে চোরাই ইজিবাইকসহ দুই চোরকে আটক করে পুলিশ।
পরে শনাক্ত হয় সেটিই নাঈমের ইজিবাইক। ওই দুই চোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে নাঈমকে হত্যা করে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেন। তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী অভিযুক্তদের বাড়ির পাশ থেকে মাটিতে পুঁতে রাখা নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ২২ এপ্রিল বিকেলে নাঈমের বড় ভাই মো. রাশেদ শেখ বাদী হয়ে আছমত শেখ, সাগর মোল্লা ও ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফরহাদ হোসেন। তিনি ২০২২ সালের ২৪ মে আছমত, সাগর ও ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আদালতের সরকারি কৌসুলি (পিপি) শাহ্ মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘দুই সাজা একত্রে চলায় বড় সাজা যাবজ্জীবন ভোগ করলেই হবে। তবে এ মামলার অপর আসামি ১৬ বছর বয়সী কিশোরের বিচার শিশু আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট।’
এন কে বি নয়ন/কেজে/জেআইএম








