টানা ১১তম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এতে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। খবর আল-জাজিরার।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে আজকের মতো অভিযান শেষের ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছে, টানা ১১তম রাতেও তারা ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা আরো দুর্বল করতেই এ হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, হামলায় ইরানের সামরিক অভিযান পরিচালনা কেন্দ্র, সামুদ্রিক সক্ষমতা, বিমান হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক সরবরাহ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ইরানের তাসনিম নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ১১তম রাতের এই হামলায় রাজধানী তেহরান, বুশেহর, সিরিক, বেহবাহান এবং ওমিদিয়ে শহরের আশপাশের সামরিক কেন্দ্রগুলো কেঁপে ওঠে। তেহরানের আকাশে বিকট বিস্ফোরণের পর সক্রিয় হয়ে ওঠে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ওয়াশিংটন এখনো কূটনৈতিক সমাধানে বিশ্বাসী, তবে ইরানকে আলোচনায় আন্তরিক হতে হবে। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক কোনো পানিপথে কোনো দেশ জোরপূর্বক টোল আদায় করবে বা জাহাজে হামলা চালাবে- এই বিপজ্জনক নজির যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না।”
অন্যদিকে, পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত করে তুলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি খুব শিগগির ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামের একটি সন্দেহভাজন পারমাণবিক কেন্দ্রে ‘অত্যন্ত ভারী’ হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন।
জবাবে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলে পুরো অঞ্চলে ইরানের আক্রমণের পরিধি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে।
সহিংসতা ও যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়া বন্ধে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা কূটনৈতিক চেষ্টা জোরদার করেছেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি ইসলামাবাদে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন।
একই দিনে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সউদ টেলিফোনে কথা বলেছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পূর্বে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক পুনরুজ্জীবিত করার ওপর জোর দেন।
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুনের সমঝোতা স্মারক ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। সেন্টকমের দাবি, গত তিন মাসে ইরান হরমুজ প্রণালিতে ৩০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তবে যুদ্ধ সত্ত্বেও বর্তমানে মার্কিন বাহিনীর সহায়তায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেছে সেন্টকম।








