বাংলাদেশ কি শুধু মুসলমানের জন্য স্বাধীন হয়েছে, নাকি সব জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবার জন্য-এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সংসদ-সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ব্যাংকের নামের আগে যদি ইসলাম থাকে, সেখানে যদি মুসলিম ছাড়া অন্য ধর্মের লোক চাকরি করতে না পারে, এটা কি বৈষম্য নয়?

শনিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তব্যের পর সংসদে ইসলামিক ব্যাংকিং নিয়ে অল্প বিতর্ক হয়। এতে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সংসদ-সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ এবং জামায়াতের সংসদ-সদস্য শাহজাহান চৌধুরী অংশ নেন।

গয়েশ্বরের অভিযোগ নাকচ করেন আন্দালিব রহমান পার্থ এবং বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ-সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। তারা জানিয়েছেন, ইসলামী ব্যাংকে অন্য ধর্মাবলম্বীদের কাজ করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই এবং বাস্তবে তারা কাজও করছেন। পরে পার্থ বলেন, ’ইসলামিক ব্যাংকিং পৃথিবীতে এখন নন-মুসলিমদের মধ্যেও অনেক বেশি পপুলার হয়ে যাচ্ছে। যে কেউ চাকরি করতে পারে ইসলামী ব্যাংকে।’ পার্থের বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের বিষয়টাও অত্যন্ত সেনসিটিভ। কমিউনাল ইস্যু এখানে তোলা হয়েছে।’

এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে কথা বলেন শাহজাহান চৌধুরী। তিনি গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের দাবি খণ্ডন করে বলেন, আমার নিজ এলাকাতেও অনেক হিন্দু ইসলামী ব্যাংকে চাকরি করেছেন।’

মাদকের চালান আসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ির আশপাশ দিয়ে : বাজেট আলোচনায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘দেশে মাদকের সবচেয়ে বড় চালান আসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বাড়ির আশপাশ (কক্সবাজার-টেকনাফ) দিয়ে। আগে শুনতাম বদী, এখন তো বদী নাই, বদী তো বদ হয়ে গেছে গা। এখন ওইখানকার দায়িত্বটা কে নিছে। বাড়ির আশপাশের লোক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তো চেনার কথা।’

সুদের পরিবর্তে জাকাত প্রসারের প্রস্তাব দিলেন পার্থ : মদিনা সনদের ভিত্তিতে সামাজিক নিরাপত্তা গড়া, সুদভিত্তিক ব্যবস্থা ধীরে ধীরে কমিয়ে ইসলামী ব্যাংকিং এবং জাকাত প্রসারের প্রস্তাব তুলেছেন আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেন, আমাদের প্রাণপ্রিয় প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) যখন মদিনা রাষ্ট্র গড়েন, এর উপরে আর সভ্যতা হয় না। সেই রাষ্ট্রের দুটি খুঁটি ছিল, ন্যায়বিচার ও মানবিকতা। সেই মানবিকতার মানে আইনের শাসন। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিশ্বের মহামানব, তাঁর মতো আইনের শাসন পৃথিবীর কোনো দেশে আসবে না।

তিনি বলেন, ‘জাকাত ইসলামি অর্থনীতির ভিত্তি, অবিচ্ছেদ্য অংশ, দরিদ্রদের জন্য নিরাপত্তা। বাংলাদেশে জাকাত হিডেন ইকোনমি। কিন্তু কেউ বলতে পারি না, কত টাকা জাকাত দেওয়া হয়। সরকারের জাকাত নেওয়ার উপায় রয়েছে। তবে তা সামান্য। একটি ডাটাবেজ থাকা উচিত প্রত্যেক নির্বাচনি আসনে। যাতে আমরা যে-ই জাকাত দিতে চাই, প্রবাসীরাও যদি জাকাত দিতে চায়, তাহলে ওই ডাটাবেজ অনুসারে জাকাত পৌঁছে দিতে পারে। অবশ্যই আমরা জাকাতকে উৎসাহিত করব।’