সবুজ মাঠের লড়াই যখন তীব্র স্নায়ুযুদ্ধে রূপ নেয়, তখন ইতিহাস লেখে কেবল অদম্য মানসিকতা। আর সেই রূপকথার জন্ম দিয়েই বিশ্বকাপে নিজের নামখোদাই করে নিলেন গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। জাপানের বিপক্ষে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে তাঁর করা জয়সূচক গোলটি এখন বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ইতিহাসে নির্ধারিত সময়ের সবচেয়ে দেরিতে হওয়া গোলের নতুন রেকর্ড।

সেই ঐতিহাসিক গোলেই ব্রাজিল কেটেছে শেষ ষোলোর টিকিট। শুরুতে পিছিয়ে পড়েও শেষ বত্রিশের ম্যাচে হিউস্টনে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়েছে সেলেসাওরা। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে নায়ক বনে যাওয়া মার্তিনেল্লি তাই মনে করালেন ব্রাজিলের দৃঢ় মানসিকতার কথা। ম্যাচ শেষে এই ফরোয়ার্ড বলেন, ‘এটাই ব্রাজিল, আমরা কখনো হাল ছাড়ি না। আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছি এবং এই জয় আমাদের পুরোপুরি প্রাপ্য ছিল।’

নকআউটের মঞ্চে অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ গড়ানোর ঠিক আগের মুহূর্তে করা মার্তিনেল্লির গোলটির সময় ছিল ঠিক ৯৫ মিনিট। এর মাধ্যমে তিনি ভেঙে দিয়েছেন ইতালির কিংবদন্তি ফ্রান্সিসকো টট্টির দুই দশক পুরোনো রেকর্ড। ২০০৬ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯৪:২৬ মিনিটে গোল করে ইতালিকে জিতিয়েছিলেন টট্টি। এছাড়া ২০১৮ সালে জাপানেরই বিপক্ষে বেলজিয়ামের নাসের শাদলি করেছিলেন ৯৩:৪১ মিনিটে।

ম্যাচের ৬৫ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন মার্তিনেল্লি। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের কনুইয়ের আঘাতে চোখ রক্তাক্ত হলেও মাঠ ছাড়েননি তিনি। উল্টো ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ব্রুনো গিমারেসের এক ‘ পাস থেকে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে হৃদয় ভেঙে দেন জাপানের।

ব্রুনোর অ্যাসিস্ট নিয়ে মার্তিনেল্লি বলেন, ‘ডি-বক্সের ভেতর ছোট জায়গায় ব্রুনোর কেমন দক্ষতা, তা আমি ভালো করেই জানতাম। ওটা একটা অবিশ্বাস্য পাস ছিল, আমার কাজটা সহজ হয়ে গিয়েছিল। আমি অ্যাসিস্টের জন্য ব্রুনোকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। দলগত প্রচেষ্টাই মূলত পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। আমরা পুরো ৯৬ মিনিট আমাদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি, শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছি।’