প্রতি বছরেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) রাজস্ব তহবিলে বাজেট ঘাটতি বেড়ে চলেছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে যে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয় তার থেকে ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হওয়ায় এই ঘাটতি বাড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে এ ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯৯ কোটি ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকায়।

শনিবার (২৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের জান্নাতুল ফেরদৌস সিনেট ভবনে ৪৩ তম সিনেট অধিবেশনে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রব এ তথ্য জানান ।

জানা গেছে, ২০২২-২৩ পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জিত ঘাটতির পরিমাণ ৬১ কোটি ৯১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত ঘাটতি ছিল ৮০ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা। পরবর্তী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আরও ১৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা ঘাটতি যুক্ত হওয়ায় মোট ঘাটতি বেড়ে ৯৯ কোটি ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। চলতি অর্থবছরের হিসাব যুক্ত হলে এ ঘাটতি শতকোটি টাকা অতিক্রম করবে।

অধ্যাপক আব্দুর রব বলেন, সিনেট অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেট এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, হল ও দপ্তরের চাহিদা বিবেচনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ৪২৬ কোটি ১৭ লাখ ৯১ হাজার টাকা এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেট ৪৪১ কোটি ১ লাখ ৬১ হাজার টাকা নির্ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) পাঠানো হয়।

তবে ইউজিসির বাজেট পরীক্ষা দল সংশোধিত বাজেটে ৩৪৮ কোটি ২৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকা এবং মূল বাজেটে ৩৪৮ কোটি ৭০ লাখ ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা ও প্রাপ্ত বরাদ্দের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান থেকেই যাচ্ছে। প্রশাসনের ভাষ্য, এ ব্যবধানই প্রতি বছর রাজস্ব তহবিলে ঘাটতি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, শিক্ষা-আনুষঙ্গিক বিভিন্ন খাতে প্রকৃত প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় একটি কল্যাণমুখী বাজেট বাস্তবায়ন ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সুবিধা, গবেষণা কার্যক্রম, শিক্ষার্থীসেবা এবং প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। কিছু ব্যয় সরকারি বিধিমালার আওতায় না থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়কে সেগুলোর অর্থ বহন করতে হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে জাবি স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালন ব্যয়, গবেষণা ভাতা, নৈশ ভাতা, গার্ড বোনাস, স্বাস্থ্য বা গোষ্ঠী বীমা খাতে ভর্তুকি এবং ডাইনিং হলের অস্থায়ী কর্মচারীদের বেতন। এসব ব্যয়ও রাজস্ব তহবিলের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

তবে আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এসব খাতে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মো. রকিব হাসান প্রান্ত/এনএইচআর/এমএস