জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলা লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা। এ সময় তাঁরা কিছুক্ষণ উপকেন্দ্রের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে খবর পেয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন। গতকাল রোববার রাত ৯টার দিকে উপজেলার জোনাইল এলাকায় অবস্থিত বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
মাদারগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পুরো এলাকাই পল্লী বিদ্যুতের আওতাভুক্ত। এখানে প্রায় এক লাখ গ্রাহক রয়েছেন। উপজেলায় প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ মেগাওয়াট। তবে কয়েক সপ্তাহ ধরে জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র সাত থেকে আট মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম থাকায় বাধ্য হয়ে ব্যাপক লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অন্যান্য দিনের তুলনায় গতকাল দিন-রাত মিলিয়ে প্রায় বিদ্যুৎ ছিলই না। এর মধ্যে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন বাসিন্দারা। পরে জোনাইল ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ঘেরাও করেন। এ সময় তাঁরা বিদ্যুতের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে খবর পেয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন। প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থান শেষে ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা সেখান থেকে চলে যান।
জোনাইল এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক—সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এখানে বিদ্যুৎ যায় না, বরং মাঝেমধ্যে আসে। চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের একটি ম্যাচও পুরোটা দেখতে পারছি না। ২০–২৫ মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ এলেও আবার কয়েক ঘণ্টার জন্য চলে যায়। এমন অনিশ্চিত বিদ্যুৎ সরবরাহে স্বাভাবিক জীবনযাপনই কঠিন হয়ে পড়েছে।’
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, ‘কয়েক শ লোক ওই উপকেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছিলেন। সত্যিকার অর্থে আমাদের যা চাহিদা, তার তুলনায় আমরা বরাদ্দ কম পাচ্ছি। এই বিষয়গুলো ক্ষুদ্ধ গ্রাহকদের বুঝিয়েছি। এই সমস্যার সামাধান করার জন্য আমাদের বিদ্যুতের বরাদ্দ বাড়াতে হবে। ইতিমধ্যে এই সমস্যাগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’








