উচ্চ আদালত থেকে সব মামলায় জামিন পেলেও মুক্তি পাচ্ছেন না সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর বনানী থানার একটি হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আসামির উপস্থিতিতে এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৬ জুলাই তারিখ ধার্য করেছেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ।

এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন আদালতের বনানী থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মোক্তার হোসেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুরে মহাখালীতে সেতু ভবনের সামনে বিক্ষোভ করছিলেন আন্দোলনকারীরা। সেখান থেকে তাদের শাহবাগ যাওয়ার পথে হামলা, গুলি ও হাতবোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে উজ্জ্বল মিয়াসহ ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন। এ ঘটনায় উজ্জ্বল মিয়া বনানী থানায় হত্যাচেষ্টাসহ বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলা করেন।

বিচারপতি খায়রুল হককে গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলের কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে।

পর্যায়ক্রমে সাতটি মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। এসব মামলার মধ্যে জালিয়াতি করে রায় প্রদান, হত্যা ও দুর্নীতির অভিযোগে মামলাগুলো ছিল।

সবগুলো মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। আপিল বিভাগ সাত মামলায় জামিন বহাল রাখার পর কারাগার থেকে মুক্তির অপেক্ষায় থাকার সময় নতুন করে যাত্রাবাড়ী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় খোবাইব নামে এক যুবককে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় গত ২৩ মে। এই মামলায়ও গত বুধবার তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাঁর জামিন বহাল রাখেন।

সেই অনুযায়ী তাঁর মুক্তিতে আর কোনো বাধা না থাকলেও আজ বৃহস্পতিবার আরেকটি মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। ফলে মামলার আবেদনই তাঁর মুক্তির বাধা হয়ে দাঁড়াল।

উল্লেখ্য, সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকে আসামি হিসেবে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। গত ১৭ মে বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।