ফ্রান্সকে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। সুইডেনের বিপক্ষে ফ্রান্সের ৩-০ জয়ে দু’টি গোলই তার। সেই দুই গোলে একাধিক নজির গড়েছেন এমবাপ্পে। টপকে গিয়েছেন ব্রাজিলের রোনাল্ডোকে। এখন তার সামনে শুধু লিওনেল মেসি।গতকাল রাতে নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে এমবাপ্পের জোড়া গোল ছাড়াও একটি গোল করেছেন ব্র্যাডলি বার্কোলা। তবে নজর কেড়েছেন এমবাপ্পেই। প্রথম গোলের ক্ষেত্রে তার একাই অবদান। দ্বিতীয়ার্ধের আট মিনিটে দলের দ্বিতীয় গোল করেন বার্কোলা। ৭৪ মিনিটে তৃতীয় গোল এমবাপ্পের।বিশ্বকাপের নকআউটে এত দিন ৯টি করে গোল ব্রাজিলের লিওনিদাস (১৯৩৮) এবং রোনাল্ডোর (২০০৬)। ২০ বছর আগের সেই কীর্তি পেরিয়ে গেলেন এমবাপ্পে। এখন বিশ্বকাপের নকআউটে সবচেয়ে বেশি গোল তার। তিন বিশ্বকাপ মিলিয়ে নকআউটে এতগুলো গোল করেছেন এমবাপ্পে। ২০১৮-য় তিনি তিনটি গোল করেন। তার মধ্যে প্রি-কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জোড়া গোল এবং ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে এক গোল ছিল। কাতার বিশ্বকাপে আরও পাঁচটি গোল করেন। পোল্যান্ডের বিপক্ষে দু’টি এবং ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক ছিল। এ বার অতিরিক্ত একটি নকআউট পর্ব খেলতে হবে এমবাপ্পেদের। ফলে রেকর্ড আরও মজবুত করার সুযোগ থাকছে।পাশাপাশি মেসির পেছনেও ধাওয়া করছেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল করার যে নজির জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা গড়েছিলেন, তা আগেই ভেঙে দিয়েছেন মেসি। এই মুহূর্তে মেসির ১৯টি গোল। ক্লোসার সঙ্গে সমান গোলে দাঁড়িয়ে ছিলেন এমবাপ্পে। এখন তার বিশ্বকাপে ১৮টি গোল। এমবাপ্পের এটি তৃতীয় বিশ্বকাপ। বয়সও অনেক কম। ফলে আরও অনেক গোলের সুযোগ থাকছে তার কাছে। ‘মেসি আরও গোল করুক, কিন্তু বিশ্বকাপ আমার চাই’ বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় মেসির (১৯) পরেই রয়েছেন এমবাপ্পে (১৮)। সেই প্রসঙ্গ তুলতেই এমবাপ্পে বলেন, ‘গোলটা করেছি, কারণ ১৯ জুলাই ফাইনাল খেলতে এখানে (নিউ জার্সি) আসতে চাই। আমরা সব ম্যাচে জেতার চেষ্টা করছি। এক ধাপ করে এগোনোর চেষ্টা করছি। যত বেশি গোল করবেন তত বেশি র্যাঙ্কিংয়ে উপরে উঠবেন। কাউকে নতুন কিছু শেখাতে আসিনি।’এমবাপ্পে আরও বলেন, ‘আমি জানি লিও আরও অনেক গোল করবে। সেটার দিকে নজর দিতে চাই না। আমি দেখতে চাই কাদের বিপক্ষে ভবিষ্যতে আমাদের খেলতে হতে পারে। ফাইনালের দিকে কতটা এগিয়েছি, সেটা নিয়ে ভাবতে চাই।’প্রি-কোয়ার্টারে প্যারাগুয়ের সঙ্গে খেলতে হবে ফ্রান্সকে। তারা জার্মানির মতো দলকে ছিটকে দিয়ে খেলতে নামবে। এমবাপ্পে তা নিয়েও ভাবতে রাজি নন। বলেন, ‘আপাতত মাঝের এই সময়টায় পরিশ্রম করতে হবে। দেখতে হবে, প্যারাগুয়ে ম্যাচে কতটা উন্নতি করতে পারি। এখনও অনেক জায়গায় ঘাটতি আছে। সেগুলো ঠিক করতে হবে। তবে দলের মানসিকতা ইতিবাচক। আমাদের গোল করার ক্ষমতা রয়েছে। ফলে আমরা সব ম্যাচেই এগিয়ে যেতে পারি।’মায়ের মৃত্যুর পর এই ম্যাচে ফ্রান্সের ডাগআউটে ফিরেন কোচ দেশ্যম। তিনি বলেন, ‘যেটা দরকার ছিল সেটাই করেছি আমরা। প্রথম ১৫ মিনিটে ভাল খেলতে পারিনি। তার পর অনেক সুযোগ তৈরি করেছি। প্রথমার্ধে নিখুঁত হতে পারিনি, এটাই আমার একমাত্র আক্ষেপ।’ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় নরওয়েনরওয়ে- ২, আইভোরি কোস্ট- ১ নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে খেলা একাদশ প্রায় বদলে ফেলেছিলেন নরওয়ের কোচ। আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওদেগার্ডদের আইভোরি কোস্টের ম্যাচে প্রথম থেকেই নামিয়ে ছিলেন। তাতেই বদলে যায় দলের খেলা। গোলের একাধিক সুযোগ নষ্ট করেও নরওয়ে পৌঁছে বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে। ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছায় নরওয়ে। পরের ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ব্রাজিল।ম্যাচে নরওয়ের আগ্রাসী ফুটবলের জবাবে কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়েছিল আইভোরি কোস্ট। প্রতি আক্রমণে উঠে বেশ কয়েকবার বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে আফ্রিকার দেশটিও।আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে দৃষ্টিনন্দন ফুটবল উপহার দিয়েছে দু’দলই। খেলায় পরিকল্পনার ছাপ ছিল , দু’দল পরস্পরকে টেক্কা দেয়ার চেষ্টা করে। তবু নরওয়ের আধিপত্য ছিল বেশি। অন্তত আধ ডজন গোলে জেতা উচিত ছিল তাদের। আবার নরওয়ের গোলরক্ষক নিলান্ড কয়েকবার দলের পতন আটকেছেন। গোলের জন্য নরওয়েকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ম্যাচের ৩৯ মিনিট পর্যন্ত। বক্সের বাইরে থেকে নেয়া শটে নরওয়েকে এগিয়ে দেন আন্তনিয়ো নুসা। ৭৪ মিনিটে আইভোরি কোস্টের আমাদ দিয়ালো এক সতীর্থের সঙ্গে ওয়াল পাশ খেলে গোল উপহার দেন । ম্যাচের ৮৬ মিনিটে প্যাট্রিক বার্গ বল দেন বক্সে থাকা হালান্ডকে। পায়ের আলতো ছোঁয়ায় বিশ্বকাপে নিজের পঞ্চম গোলটি করেন নরওয়ের তারকা।
আইভোরি কোস্ট বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও তাদের খেলা মনে থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের। তবে ডালাসে ব্রাজিল ম্যাচের আগে নরওয়ে শিবিরকে চিন্তায় রাখবে সুযোগ নষ্টের বিষয়টি।








