জুলাই আন্দোলন দমনে স্নাইপার রাইফেল ব্যবহার করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও সন্ত্রাসের অভিযোগে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে দলটি নিষিদ্ধ হতে পারে এবং দলটির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। রোববার নিজ কার্যালয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমনে স্নাইপার রাইফেল ব্যবহার নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, জুলাই বিপ্লবে যে স্নাইপার রাইফেল ব্যবহার করা হয়েছে তা আমাদের একাধিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। আমরা অভিযুক্তদের বিচারের সম্মুখীন করছি। যাত্রাবাড়ীর একটি মামলায় আমরা দেখেছি-পুলিশ কর্মকর্তাদের নামে অস্ত্র বণ্টন দেখানো হলেও বাস্তবে অস্ত্রগুলো দেওয়া হতো আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে। পুলিশের পাশাপাশি তারা এসব অস্ত্র ব্যবহার করত।

আওয়ামী লীগের বিচার সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাপারে আমিনুল ইসলাম বলেন, আপনারা (সাংবাদিক) যেভাবে শুনেছেন আমিও একইভাবে শুনেছি। তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন প্রণয়ন করেছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। ২০১০ সালে একই আইনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। এরপর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়। ২০১৩ সালে এ আইনে সংশোধন এনে ‘অর্গানাইজেশন’ শব্দটি যোগ করে তৎকালীন সরকার। এছাড়া ২০০৯ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রণয়ন করা হয়। ওই আইনের এক জায়গায় ব্যক্তির সঙ্গে সত্তাকেও বিচারের ব্যবস্থা রাখা হয়। এছাড়া কোনো সংগঠন যদি কোনো অপরাধ করে তাহলে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বিচার করা যাবে বলেও উল্লেখ করা হয়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগেরই প্রণীত আইনে দলটি নিষিদ্ধ হতে পারে এবং দলটির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।

শেখ হাসিনা আপিল করতে পারবেন কিনা-এমন প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সুপিরিয়র রেসপনসেবলিটির দায়ে তার (হাসিনা) সাজা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসাবে এ সাজা হয়নি। সাধারণত রায় ঘোষণার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিলের বিধান রয়েছে। এরইমধ্যে সেই সময় পার হয়ে গেছে। তিনি আর আপিল করতে পারবেন না। তবে আমরা চাই-শেখ হাসিনা দেশে এসে নিজের বিরুদ্ধে হওয়া দণ্ড চ্যালেঞ্জ করুক। আপিল ফাইল করুক। কারণ তার দেশে আসতে কোনো আইনগত বাধা নেই।

সুযোগ না থাকলেও আপিল করবেন কীভাবে-এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, এটা আপিল বিভাগের বিষয়। আগে তাকে (শেখ হাসিনা) আসতে দিন। আইনি প্রক্রিয়ায় তখন কীভাবে কী হবে-সেটা তখন দেখা যাবে। শাপলা চত্বর মামলাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের আরও অনেক মামলায় তিনি বিচারের সম্মুখীন হতে পারেন। এরইমধ্যে একটি মামলায় তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। এজন্যই দেশে এসে তার বিচার মোকাবিলা করা উচিত। ইনুকেও শাপলা চত্বরের মামলায় আসামি করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এ মামলার শুরু থেকে আমরা জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সংশ্লিষ্টতা পাচ্ছি। তখন তিনি তথ্যমন্ত্রী ছিলেন। তার নির্দেশনায় ২০১৩ সালের ৫ মে’র পর দুটি টেলিভিশন চ্যানেলের কার্যক্রম বন্ধের পাশাপাশি কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। সংসদে দাঁড়িয়ে এসবের দায় স্বীকার করে তিনি বলেন, তিনি এগুলো মোকাবিলা করেছেন।