জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি আন্দোলনের স্মৃতি নয় বরং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের দায়িত্বও দিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা নিশাত তাবাসসুম প্রাপ্তি।
তিনি বলেন, ‘জুলাই যেন শুধু ইতিহাসের একটি অধ্যায় হয়ে না থাকে, এটি যেন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনের প্রেরণা হয়ে ওঠে।’
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নিশাত তাবাসসুম প্রাপ্তি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তারা ব্যক্তিগত স্বার্থে রাজপথে নামেননি। একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়েই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছে। কিন্তু আমরা অনেকেই নীরবে সরে দাঁড়িয়েছি। কারণ দেশের জন্য কাজ করতে পারাটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় সম্মান। ব্যক্তিগত স্বীকৃতির চেয়ে দেশের কল্যাণ আমাদের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি জানান, রাষ্ট্রের কাছে তার ব্যক্তিগত কোনো দাবি নেই। তবে দেশের স্বার্থে দুটি বিষয়ে তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
আরও পড়ুন
জুলাই যোদ্ধা মিতুর খোঁজখবর নিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রথম দাবিতে তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ, আহত এবং সকল সংগ্রামীকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সম্মান ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।’
দ্বিতীয় দাবিতে তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো বাংলাদেশিকে ন্যায়বিচারের জন্য রাজপথে জীবন দিতে না হয়।’
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন দেশের সামনে একটি নতুন দায়িত্বও তুলে ধরেছে। সেই দায়িত্ব হলো এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা যেখানে শিক্ষিত তরুণরা বেকার থাকবে না, যোগ্যতার মূল্যায়ন হবে, সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, দুর্নীতির সুযোগ কমবে, জনভোগান্তি হ্রাস পাবে, পরিবেশ সুরক্ষিত থাকবে এবং প্রতিটি নাগরিক নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনা ও উন্নয়ন নিয়ে একটি জাতীয় নীতি প্রস্তাব তৈরির কাজ করছেন। তার বিশ্বাস, সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদের গবেষণা, চিন্তা ও গঠনমূলক প্রস্তাবও জাতীয় সম্পদ হিসেবে মূল্যায়িত হওয়া উচিত।
তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, আহতদের প্রতি সম্মান এবং দেশের মানুষের জন্য ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এমইউ/বিএ








