টানা দুই দিনের বৃষ্টির পর ফের ভারী বর্ষণে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের কয়েকটি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড় থেকে মাটি ও গাছপালা সড়কের ওপর পড়ে যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) ভোর থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে কলাতলী দরিয়ানগর থেকে হিমছড়ির সাগরনিবাস এলাকায় সকাল থেকে বেলা ১১টার মধ্যে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার ভোররাত থেকেই থেমে থেমে টানা বৃষ্টি হচ্ছিল। ৬টার পর থেকে তা ভারী হয়ে ঝরে। এরই জেরে বেলা পৌনে ১১টার দিকে হঠাৎ পাহাড়ের মাটি ধসে গাছসহ এসে মেরিন ড্রাইভ সড়কের ওপর চলে আসে। দরিয়ানগর থেকে হিমছড়ি সাগরনিবাস পর্যন্ত প্রায় ৫-৬টি স্পটে এমন ঘটনা ঘটে। এতে সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। তবে, খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু করেন।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের সদর রেঞ্জাধীন কলাতলী বিট কর্মকর্তা ক্যাচিংউ মারমা বলেন, পাহাড়ধসে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক তৎপরতায় বেলা আড়াইটার দিকে মাটি ও অন্যান্য গাছগাছালি সরিয়ে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় এ ধসের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বর্ষা মৌসুমে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাহাড়ঘেঁষা অংশগুলোতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকায় চালক ও সাধারণ মানুষের সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করা উচিত।
প্রসঙ্গত, প্রায় প্রতি বর্ষাতেই মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশের পাহাড়ে ধসের ঘটনা ঘটে। সড়ক প্রশস্ত করতে পাহাড়ের পাদদেশ কেটে সমান করায় অনেক অংশ খাড়া হয়ে রয়েছে। ফলে টানা বৃষ্টিতে এসব অংশ সহজেই ধসে পড়ে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঝুঁকি কমাতে স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সায়ীদ আলমগীর/কেএইচকে/জেআইএম








