জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করে যারা রাজনীতি করছেন, তারাই ফ্যাসিবাদী সরকারের ফিরে আসার আবহ তৈরি করে দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের অর্জন কোনো একক দলের নয়, গণতন্ত্রকামী মানুষের আন্দোলনের ফসল। এ অর্জনকে রাজনীতিকরণ করা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।

জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর উপলক্ষে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এই মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাবির নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এ আলোচনা সভা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক ও ইউট্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক মো. মোরশেদ হাসান খান।

আরও পড়ুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যার বিচার নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেন স্নিগ্ধ

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের প্রতিযোগিতায় আসতে হবে। চেতনা বিক্রির রাজনীতি থেকে সরে আসতে হবে। দেশে এই রাজনীতি আর হবে না।

আওয়ামী লীগকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হবে কি না সে বিষয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে এমন রাজনৈতিক চর্চা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান, যাতে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের সুযোগ তৈরি হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের মেয়াদ মাত্র পাঁচ-ছয় মাস। অথচ এরই মধ্যে সরকারকে ব্যর্থ বলা হচ্ছে। তবে ব্যর্থতার মূল্যায়নের জন্যও একটি নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকরা শুধু শ্রেণিকক্ষ ও গবেষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নন। দেশের সংকটকালেও তারা কথা বলেন এবং শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ান। নতুন বাংলাদেশে বৈষম্যহীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাম্য, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

jagonews24

রুহুল কবির রিজভী বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান কোনো একক পক্ষের আন্দোলনের ফল নয়; এটি দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক আন্দোলন ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের ফসল।

অনুষ্ঠানে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন, শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা, শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ এবং শহীদ সাজিদের মা বক্তব্য দেন। তারা জুলাইয়ের ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এমআইএইচএস/