শ্রেণিকক্ষ ও খেলার মাঠ সবখানেই থই থই পানি। যেন পানিতে ভাসছে বিদ্যালয়ের বহুতল ভবন। বর্ষাকাল এলেই চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার শতবর্ষী গাছবাড়িয়া নিত্যানন্দ গৌরচন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়। স্কুলসংলগ্ন একটি কালভার্ট ভরাট করায় দুই বছর ধরে বর্ষাকালে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শ্রেণি কক্ষগুলো এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ কারণে স্কুলটির শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে কমছে। ছয় শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম গাছবাড়িয়া নিত্যানন্দ গৌরচন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯১৪ সালে স্থাপিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ১৯১৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, পানিতে নিমজ্জিত স্কুলের নিচ তলার শ্রেণিকক্ষ, অফিসকক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন, ল্যাবরেটরি, এবাদত খানা, ছাত্রী-শিক্ষকদের পৃথক টয়লেট ও মাঠ। দেখে মনে হয়-যেন পানিতে ভাসছে বিদ্যালয়টি। নিচ তলার সব কার্যক্রম বন্ধ। ওপরের তলায় যাওয়ার জন্য অস্থায়ীভাবে পানির ওপর বেঞ্চ বসানো হয়েছে। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে মশার প্রজননও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানকে নিয়মিত স্কুলে পাঠাচ্ছে না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ মতিন বলেন, সড়ক ও আশপাশের স্থাপনা উঁচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে বিদ্যালয়টির উত্তর-পশ্চিম দিকে পানি জমে যায়। এর মূল কারণ-যে কালভার্ট দিয়ে পানি প্রবাহিত হতো সেটি ভরাট করে দেওয়া হয়েছে। চন্দনাইশ পৌরসভার উদ্যোগে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসসংলগ্ন (গাছবাড়িয়া দুল্লভ পাড়া-খাঁনহাট পর্যন্ত) সড়কের মাঝখানে ড্রেন নির্মাণ কাজ শুরু করার পর কালভার্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ড্রেনের কাজ শেষ না করার কারণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পানি জমা হয়। এতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, মালিকানাধীন জায়গায় থাকা কালভার্টটি বন্ধ করে দেওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। সমাধানের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ড্রেন তৈরি করা হচ্ছে। সেটির কাজ চলছে। আশা করছি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাটির জলাবদ্ধতা দূর হবে।








