টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সৃষ্ট বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। এতে ভেসে উঠছে ক্ষত। এরই মাধ্যে ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও কক্সবাজারের রামুতে খাদ্য সংকটে হাজারো মানুষ। সাতকানিয়ায় ভেসে এসেছে অজ্ঞাতনামা লাশ। রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে ত্রাণ নিয়ে হট্টগোল হয়েছে। কাপ্তাই হ্রদের উচ্চতা বাড়ছে। ফলে কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বেড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। পানি নেমে যাওয়ায় বান্দরবানের আশ্রয় কেন্দ্র ছাড়ছেন বানভাসিরা। খাগড়াছড়িতে বন্য পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বিমানবাহিনী ত্রাণ বিতরণ ও সুনামগঞ্জে বিজিবি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করেছে। বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে লালমানিরহাটে তিস্তা ও সিলেটের প্রধান দুই নদীর পানি। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ভেঙে গেছে রাস্তাসহ স্লুইসগেট। ফরিদপুরে বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেঝেতে ঢুকে পড়েছে পানি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ও কসবায় বিদ্যুৎ লাইনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পানি জমে চলাচলে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। ভোলার মনপুরায় আট দিন ধরে পানিবন্দি মানুষ এখনো ত্রাণ পায়নি। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমন বীজতলা।
ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে
বৃষ্টিপাত নিয়ে কোনো সুখবর দিতে পারেনি আবহাওয়া অধিদপ্তর। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আজ ১১টা পর্যন্ত দেশের রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সোমবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক স্বাক্ষরিত এক পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, ভারি ও অতিভারি বর্ষণের কারণে ঢাকা মহানগরীর কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া আগামী কয়েক দিনের পূর্বাভাসেও সারা দেশে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। পাশাপাশি এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এছাড়া মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ সহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে এ সময়ে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে।
চট্টগ্রামে ভেসে উঠছে ক্ষতচিহ্ন
টানা বর্ষণ শেষে সোমবার চট্টগ্রামে দেখা গেছে সূর্যের মুখ। এদিন সকাল থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় সাতকানিয়া-বাঁশখালীসহ জেলার দুর্গত এলাকায় বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। আর এর সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে উঠছে ভয়ংকর ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র। সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও ব্যক্তি উদ্যোগে দুর্গত এলাকায় চিড়া-মুড়িসহ শুকনো খাবার সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। তবে এসব ত্রাণ প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই নগণ্য বলে দাবি করেছেন দুর্গত এলাকার লোকজন। কোনো কোনো স্থানে কেবল চিড়া-মুড়ি খেয়ে টানা ৫-৬ দিন কাটিয়েছেন শত শত পরিবার। হাজার হাজার গৃহহীন ও সহায়-সম্বলহীন মানুষ বন্যার ধ্বংসযজ্ঞের ওপর দাঁড়িয়ে এখনো হাহাকার করছে। অনেকে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। দুর্যোগের এই ক্ষত কতদিন বয়ে বেড়াতে হবে সেটা নিয়েই তারা অনিয়শ্চয়তায়।
সাতকানিয়া ও বাঁশখালী এলাকার লোকজন বলছেন, বড় সড়কের আশপাশের বাড়িঘরে ত্রাণ পৌঁছালেও দুর্গম এলাকার মানুষ পাচ্ছে না। বাঁশখালীর কাথারিয়া, ছনুয়া, সরল, সাতকানিয়ার কেউচিয়া, ঢেমশা, সাতকানিয়া সদরসহ উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকার বাসিন্দারা দাঁড়িয়ে আছেন ধ্বংসস্তূপের ওপর। ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, লোহাগাড়া, আনোয়ারা ও চন্দনাইশের মানুষ বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন। ঘরবাড়ি, গবাদিপশু, মৎস্যসম্পদ হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা।
বাঁশখালীতে প্রতিবন্ধী জাহিদের বসতবাড়ি ভেসে যাওয়ায় তিনি এখন ত্রাণের আশায় রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন। সোমবার বিকালে বাহারছাড়া ইউনিয়ন মধ্যম ইলশা এলাকায় রাস্তায় দেখা হয় মধ্য ইলশা গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে প্রতিবন্ধী জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েরাসহ থাকেন আশ্রয়কেন্দে । গত এক সপ্তাহে ত্রাণ হিসাবে পেয়েছেন দুই প্যাকেট বিস্কুট, কিছু মুড়ি, বিশুদ্ধ পানি ও কিছু খাবার স্যালাইন। তিনি অভিযোগ করেন, ত্রাণবাহী গাড়ি এলেও তিনি প্রতিবন্ধী হওয়ায় স্থানীয়দের ধাক্কাধাক্কিতে ত্রাণের প্যাকেট নিতে পারেননি।
সাতকানিয়ায় ভেসে এলো অজ্ঞাতনামা লাশ
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার একটি ধানখেত থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক বন্যার পানিতে ভেসে এসে মরদেহটি সেখানে আটকে ছিল। শনিবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার এওঁচিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দেওদীঘি বাজারের পশ্চিম পাশে, ভূমি অফিসসংলগ্ন দক্ষিণ পাশের একটি ধানখেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
বাঘাইছড়িতে বন্যার্তদের ত্রাণ নিয়ে হট্টগোল
রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে বন্যার্তদের জন্য সরকারি ত্রাণ নিয়ে হট্টগোল হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টিকে কেন্দ করে উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় বিএনপির মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওমর আলীর বিরুদ্ধে বাঘাইছড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সুপ্তশ্রী সাহা।
বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের উচ্চতা, বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে
বাড়ছে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের উচ্চতা, যা ইতোমধ্যে ছাড়িয়েছে ১০০ ফুটের ওপরে। ১০৫ ফুট ছাড়িয়ে গেলে ছাড়তে হবে হ্রদ থেকে অতিরিক্ত পানি। তবে হ্রদে পানি বাড়ার কারণে কাপ্তাইয়ে অবস্থিত কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎকেন্দে সচল করা গেছে ৫টির সবকটি ইউনিট। ফলে কেন্দে বাড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, যা বর্তমানে সর্বোচ্চ ২০৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রামুতে অপ্রতুল ত্রাণে খাদ্য সংকটে হাজারো মানুষ
চার দিন ঘরে রান্না করতে পারিনি। শুকনো খাবার খেয়ে কোনো মতে দিন কেটেছে। এখন পানি নামলেও ঘরে কাদা, চুলা নষ্ট, জ্বালানি নেই। তাই রান্নাও করতে পারছি না। এখনো কোনো ত্রাণ পাইনি। কথাগুলো বলছিলেন কক্সবাজারের রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের জামছড়ি এলাকার বন্যাকবলিত বাসিন্দা হামিদুল হাসান। তার মতো উপজেলার হাজারো পরিবার বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও এখনো খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, শিশুখাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
রামু উপজেলার অধিকাংশ এলাকা পাঁচ দিন ধরে পানির নিচে ছিল। এখন ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করলেও মানুষের দুর্ভোগ কমেনি; বরং ঘরে জমে থাকা কাদা, নষ্ট হয়ে যাওয়া রান্নার চুলা, জ্বালানি সংকট এবং প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রীর অভাবে নতুন করে মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবার এখনো রান্না করতে পারছে না। শুকনো খাবারের ওপর নির্ভর করেই দিন কাটছে তাদের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বন্যার পানি কমলেও এখন সবচেয়ে বড় সংকট খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির। শিশুদের জন্য দুধ ও খাবার, অসুস্থদের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন এবং চিকিৎসাসেবারও তীব্র অভাব রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে অবস্থান নেওয়া পরিবারগুলোর অনেকেই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বান্দরবানে আশ্রয়কেন্দ ছাড়ছেন বানভাসিরা
বান্দরবানে বৃষ্টির পরিমাণ কমায় প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে নেমেছে বন্যার পানি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় আশ্রয়কেন্দ ছেড়ে আপন গৃহে ফিরতে শুরু করেছে বানভাসিরা। সড়কের পানি নেমে যাওয়ায় বান্দরবান জেলার সঙ্গে চট্টগ্রামসহ সারা দেশের সড়ক যোগাযোগও চালু হয়েছে। সোমবার থেকে বান্দরবান-কেরানীহাট প্রধান সড়কপথে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। লামা-আলীকদম উপজেলা অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগও চালু হয়েছে। তবে রাঙামাটি-বাঙালহালিয়া সড়ক যোগাযোগ এখনো বন্ধ রয়েছে। জেলার রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি এবং থানচি-আলীকদম, লামা-সুয়ালক সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোটবড় পাহাড়ধসে সড়কের ওপর মাটি জমে থাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
খাগড়াছড়িতে এক হাজার ৩১ হেক্টর খেতের ফসল নষ্ট
খাগড়াছড়িতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল না থাকায় বিভিন্ন নিচু এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে। মাইনি ও চেঙ্গী নদীর পানি নেমে যাওয়ার পর স্পষ্ট হচ্ছে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি। ইতোমধ্যে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পুরো জেলায় প্রায় এক হাজার ৩১ হেক্টর আউশ, আমন ও গ্রীষ্মকালীন ফসলের খেত নষ্ট হয়ে গেছে। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ, নষ্ট হয়ে গেছে গ্রামীণ সড়ক। জেলার মহালছড়ি, পানছড়ি, দীঘিনালাসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কমলগঞ্জে ১০৬ হেক্টর জমির ফসল ও ৫০ কিলোমিটার রাস্তা নষ্ট
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ধলাই নদীর ভাঙনে সৃষ্ট বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে উপজেলার নিম্মাঞ্চল পতনঊষারে বন্যা পানি প্লাবিত হচ্ছে। উজান এলাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হলেও আক্রান্ত এলাকার মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে কৃষকের স্বপ্ন। বন্যার পানিতে ১০৬ হেক্টর ফসলি জমি আক্রান্ত হয়েছে এবং ৫০ কিলোমিটার রাস্তা বিনষ্ট হয়েছে।
বিমানবাহিনীর ত্রাণ বিতরণ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী। সোমবার দুপুরে উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নে রাজদিঘির পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী শমশেরনগর স্টেশন ইউনিটের পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে বন্যার্তদের হাতে ত্রাণের প্যাকেট তুলে দেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর শমশেরনগর বিমান ঘাঁটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এডমিন) উইং কমান্ডার সঞ্জীব সাহা।
সুনামগঞ্জে বিজিবির ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প
সুনামগঞ্জে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেছে বিজিবি। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় এলাকায় সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (২৮ বিজিবি) উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। মেডিকেল ক্যাম্পেইনে বিজিবির সিলেট সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসা কর্মকর্তা মেজর চৌধুরী ইমরান মাহমুদ ও তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. নাজমুল আরেফিন পাঁচ শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশুকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। ২৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল একেএম জাকারিয়া কাদির বলেন, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক ও জনসেবামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে সিলেটের প্রধান দুই নদীর পানি
সিলেটর প্রধান দুই নদীসহ অধিকাংশ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে সুরমা ও কুশিয়ারার পানি তিনটি পয়েন্টে বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে। পানি বৃদ্ধি আরও তিন দিন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বন্যাপূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
আবারও তিস্তার পানি বিপৎসীমার উপরে
লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারাজ এলাকার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি আবারও বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় নদীটির পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে নদীটির পানি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
কলাপাড়ায় স্লুইসগেট ভেঙে সাত গ্রাম প্লাবিত
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের হাজীপুরে সোনাতলা নদীর পানির স্রোতে সদরপুর স্লুইসগেট রাস্তাসহ ভেঙে গেছে। এতে প্রায় সাতশ একর ফসলি জমি পানিতে প্লাবিত হয়েছে। জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে সাতটি গ্রামে। বন্ধ হয়ে গেছে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ। এতে বিপাকে পড়েছে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। দুর্ভোগে পড়েছে অন্তত চার হাজার পরিবার।
বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু
ফরিদপুর সদর উপজেলার খলিলপুর বিলডাঙ্গা গ্রামে বজ্রপাতে সাব্বির মোল্লা (১৭) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে বৃষ্টির সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত সাব্বির মোল্লা ওই গ্রামের কাশেম মোল্লার ছেলে।
আখাউড়ার নিম্নাঞ্চল প্রাবিত
টানা বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে সোমবার ভোর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ও কাস্টমস হাউজ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও দাপ্তরিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
কসবায় বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা জোনাল অফিসের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের বেশ কয়েকটি পোল (খুঁটি) উপড়ে পড়েছে এবং মিটারিং পোলের গোড়ার মাটি ডেবে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে পল্লী বিদ্যুতের অন্তত ৬ লাখ টাকার মালামাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
পাকুন্দিয়ায় জলাবদ্ধতায় চলাচলে ভোগান্তি
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকার গ্রামের রাস্তাঘাট, বাড়িঘর একাকার হয়ে গেছে। মানুষেরা চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে।
মনপুরায় আট দিনেও ত্রাণ পায়নি পানিবন্দি মানুষ
ভোলার মনপুরায় পানিবন্দি অবস্থায় গত ৮ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত দুর্গত এলাকায় খেটে খাওয়া ও নিম্ন আযের মানুষের পাশে শুকনো খাবার (ত্রাণ) নিয়ে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। সোমবার দুপুর ২টায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মনপুরা উপজেলা ঘূর্ণিঝড় ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন জানান, সরকারিভাবে বরাদ্দ না পাওয়ায় ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি। সোমবার সকাল থেকে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা দুর্গত এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাসিন্দাদের সহযোগিতা করছেন বলে জানান উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মিজানুর রহমান ও সদস্য সচিব হোসেন হাওলাদার।
মঠবাড়িয়ায় আমন বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার কৃষকরা আমন বীজতলা নিয়ে শঙ্কিত। তৈরি করা বীজতলা অতিবর্ষণের পানিতে তলিয়ে থাকায় বীজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আবার খেত পানিতে তলিয়ে থাকায় কৃষকরা নতুনভাবে বীজতলা করতে পারছেন না। তাই আমন আবাদ বিঘ্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি দপ্তর থেকে দেওয়া তথ্য মতে, আমনের জন্য এখন পর্যন্ত তৈরি করা ৭শ হেক্টর বীজতলাই আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে পানির নিচে তলিয়ে থাকায় প্রায় ১৯শ হেক্টর আউশ ফসলও ক্ষতির মুখে আছে।
ফরিদপুর মেডিকেলের মেঝেতে পানি
গত কয়েক দিনের টানা ভারি বর্ষণে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালের পুরাতন ভবনের মেঝেতে ঢুকে পড়ছে পানি। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগী-স্বজন ও চিকিৎসকরা। গতকাল সোমবার বিকাল পর্যন্ত এ পানি থইথই অবস্থা দেখা যায়। এতে জরুরি চিকিৎসা নিতে আসা অনেক রোগীকেই নোংরা পানি মাড়িয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করতে হচ্ছে।








