চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবৈধ ভারতীয় পণ্য চোরাকারবারিদের অন্যতম মূলহোতা কামাল উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৫ জুলাই) করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ অলিনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি একই ইউনিয়নের আমলীঘাট এলাকার আমান উল্লাহর ছেলে।

পুলিশ জানায়, আটক কামাল দীর্ঘদিন ধরে করেরহাট ইউনিয়নের অলিনগর এলাকায় সীমান্তে অবৈধ ভারতীয় পণ্য বেচাকেনা চক্রের অন্যতম মূল হোতা। তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হলেও তাকে দেশের মোবাইল নম্বরে পাওয়া যায় না। তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হলে ভারতীয় নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিতে হয়। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় পণ্য জব্দের ঘটনায় জোরারগঞ্জ থানায় একটি মামলা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক করেরহাট এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, ভারতীয় সীমান্ত এলাকার চোরাচালানের মূল হোতা কামাল উদ্দিন, ইমন, জানু মিয়া, সেলিম উদ্দিন, ফারুক। তাদের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট বিভিন্ন পণ্য পাচার করে।

আরও পড়ুন

বাগবিতণ্ডায় ব্রাজিল সমর্থকের নাক ফাটালো আর্জেন্টিনা সমর্থক

তারা আরও জানান, মিরসরাই উপজেলার পূর্ব সীমান্তে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে একটি পাহাড়ি সীমান্ত এলাকা রয়েছে। যার দৈর্ঘ্য আনুমানিক ১৬ থেকে ১৮ কিলোমিটার। মূলত মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়ন এবং তৎসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকাগুলো ভারতের সীমানার কাছাকাছি পড়েছে। এসব পাহাড়ি সীমান্ত দিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অবাধে আসছে ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় চিনি, ফেনসিডিল, কাপড়, থ্রি পিস, গরু, হরলিক্স ও নানান রকম চকলেট।

কামাল ব্যবহার করেন ভারতীয় সিম, বিয়েও করেছেন সেখানে

এর আগে গত ২৪ জুন প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ভারতীয় পণ্য জব্দ করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। ২৮ জুন জব্দ করা হয় ১৮০ পিস ভারতীয় শাড়ি। ৩০ জুন ১৯টি ভারতীয় গরু জব্দ করা হয়।

আরও পড়ুন

মিরসরাই প্রতিরক্ষা জোনের ভূরাজনৈতিক পাঠ

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, কামাল উদ্দিন সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কামাল ভারতীয় সিম ব্যবহার করেন। বিয়েও করেছেন ভারতে। তার সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

এম মাঈন উদ্দিন/এসআর/জেআইএম