বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রাজৈর গ্রামের মৎস্যজীবী কবির হাওলাদার (৩৮)ও তার স্ত্রী হালিমা বেগমের (২৫) নিথর দেহ পড়ে আছে তাদের নিজ ঘরে। পাশেই পাওয়া গেছে একটি চিরকুট। তাতে লেখা-“আল্লাহ আমাদেরকে মাফ করে দিও। আমি কবির আর আমার বউ হালিমা। আমরা চলে যাচ্ছি। মানসিক যন্ত্রণা আর প্রেসার আর নিতে পারছি না। তাই আমরা চলে যাব এমন জায়গায় আর ফিরে আসবো না। এতে কারো কোন হাত নেই। আমরা আমাদের ইচ্ছাতেই যাইতে আছি। এতেই তারা সুখে থাকবে। ইতি, কবির”বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে পুলিশ ঐ দম্পতির লাশ উদ্ধার করেছে। লাশের সঙ্গেও চিরকুটটি উদ্ধার করে। নিহত কবির হাওলাদার একই গ্রামের মো. আব্দুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে।অবুঝ দুই শিশুকে এতিম করে স্বামী-স্ত্রীর অস্বাভাবিক এই মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় যেমন চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে, তেমনি চিরকুটের লেখা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা সন্দেহ।বৃহস্পতিবার দিনগত রাতের কোনো একসময় মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা জানিয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।কেউ বলছেন, পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। আবার কেউ ধারণা করছেন, আর্থিক সংকট বা ধারদেনার চাপও এর পেছনের কারণ হতে পারে।ফলে স্বামী স্ত্রী একসঙ্গে চালের পোকা মারার ঔষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আবার কেউ বলছে, স্বামী কবির হাওলাদার স্ত্রীকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা শাওন হোসেন জানান, কবির হাওলাদার পেশায় একজন জেলে। তিনি ও তার পরিবার এলাকায় শান্ত-শিষ্ট ও ভদ্র স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত। তবে অভাব অনটন ও পারিবারিক বিরোধ নিয়ে অভিমান করেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তাদের সংসারে দুটি শিশু সন্তান রয়েছে।শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম বলেন, রাজৈর গ্রাম থেকে কবির হাওলাদার ও হালিমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সঙ্গে একটি চিরকুটও পাওয়া গেছে। তবে ঘটনাটি রহস্যজনক।ওসি বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের পরে ঘটনার সঠিক কারণ জানা যাবে।
রাজনীতি
‘মানসিক যন্ত্রণা নিতে পারছি না, আমরা চলে যাচ্ছি’

শেয়ার করুন







