বিশ্বকাপ আমাদের আর কত জাদু দেখাবে, কে জানে। প্রায় প্রতিটি ম্যাচ যেন ম্যাজিকের পসরা সাজিয়েছে। ছোট্ট একটি দেশ কেপ ভার্দে বিশ্বকাপে প্রথম খেলতে এসে যে ইতিহাস গড়েছে, তা নজিরবিহীন। অভিষেকেই তাদের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে ফুটবলরসিকদের জন্য অবারিত আনন্দ নিয়ে এসেছে। শুধু ফুটবল নয়, যে কোনো ক্ষেত্রে কোনো ছোট দেশের বড় কীর্তি আমাকে আপ্লুত করে। আমার মনে হয়, বাংলাদেশের আপামর ফুটবলপ্রেমীরাও এই খুদে দ্বীপদেশটির অনুসরণযোগ্য সাফল্যে আনন্দিত হবেন। স্পেনকে রুখে দিয়ে কেপ ভার্দের স্বপ্নযাত্রা শুরু। গ্রুপপর্বে তিনটি ম্যাচই ড্র করে নকআউট পর্বে ওঠা অখ্যাত এক দেশের অনেক বড় কীর্তি।
এখন ‘শেষ বত্রিশে’ কেপ ভার্দের সামনে বর্তমান বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। অকুতোভয় দ্বীপরাষ্ট্র দুঃসাহসিক অভিযানের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছে। হারানোর কিছুই নেই তাদের। মাথা উঁচু করেই স্মরণীয় এক বিশ্বকাপ খেলে দেশে ফিরে যাবে তারা। বিশ্বমঞ্চে আবির্ভূত হতে যারা উদ্গ্রীব, আকাঙ্ক্ষার পথে যাদের বাধা হয়ে দাঁড়ায়, সীমিত সামর্থ্য-তাদের জন্য একটি বিশেষ বার্তা দিয়ে রাখল কেপ ভার্দে। অঘোষিত বার্তা-আমরাও পারি।
গত পরশু রাতে এই গ্রহের তাবৎ ফুটবল অনুরাগীর মতো আমিও টিভির সামনে বসেছিলাম এই সময়ের দুই ফুটবল নক্ষত্র কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হলান্ডের প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখার জন্য। কিন্তু হলান্ডকে বেঞ্চে বসিয়ে রেখে নরওয়ের কোচ যারপরনাই হতাশ করেছেন। সেই অপূর্ণতা অবশ্য বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিক করে ঘুচিয়ে দিয়েছেন উসমান দেম্বেলে। অসাধারণ একজন খেলোয়াড় তিনি। নরওয়ের রক্ষণভাগের নজরে ছিলেন এমবাপ্পে। ফোকাস ছিল পুরোপুরি তার ওপর। সেই সুযোগে স্পেস পেয়ে যান দেম্বেলে। তারই ফসল ঘরে তোলেন তিনি হ্যাটট্রিক করে।

