“শিল্পী সমিতির একজন সদস্য হিসেবে নির্বাচনে যারা অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের ভোট প্রদান করা দায়িত্ব মনে করি। আর সেই দায়িত্ব পালন করার জন্য এসেছি এবং আমি আমার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছি। ভোট প্রদান করে খুবই আনন্দিত।”—শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ভোট প্রদানের পর রাইজিংবিডির সঙ্গে আলাপকালে কথাগুলো বলেন গুণী অভিনেতা আজিজুল হাকিম।  

বাংলাদেশ শিল্পী সমিতির নির্বাচন উপলক্ষে বিএফডিসিতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল সকাল অনেক তারকাই ভোটপ্রদানের জন্য বিএফডিসিতে উপস্থিত হয়েছেন।  

শিল্পী সমিতির নির্বাচনের ইতিহাসে অনেকবার ভোট প্রদান করেছেন। এবার ভোট প্রদান করে কোনো পার্থক্য অনুভব করছেন কি না? জবাবে আজিজুল হাকিম বলেন, “ভোটে তো সবসময়ই আনন্দের একটা বিষয়। তবে আমি পার্থক্য করতে চাই না। আর পার্থক্য করার কোনো বিষয়ও এটা নয়। নির্বাচনে যারা অংশগ্রহণ করছেন, তাদের নির্বাচিত করার একটি প্রক্রিয়া হলো—ভোট। সাধারণ একজন সদস্য হিসেবে আগেও ভোট দিয়েছি, এবারো ভোট দিলাম। এখানে ভোটের যে পরিবেশ দেখছি, তা খুবই শান্ত, সুন্দর, সুশৃঙ্খল। এটা খুব ভালো লাগছে।”  

বিজয়ীদের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী? জবাবে আজিজুল হাকিম বলেন, “যারা নির্বাচিত হয়ে আসবেন, তারা যেন শিল্পীদের কল্যাণে, শিল্পীদের ভালো হয়, সেই বিষয়গুলো দেখেন। শিল্পীরা যাতে দুস্থ হয়ে না পড়েন, সেই দিকটা খেয়াল রাখবেন।” 

চলচ্চিত্র শিল্পীদের নিয়ে গঠিত হয়েছে শিল্পী সমিতি। কিন্তু অনেক তারকাই সংগঠন বিমুখ। যেমন: মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, আফরান নিশো এই সংগঠনের সদস্য নন। এ বিষয়ে আপনার কাছে জানতে চাই? জবাবে আজিজুল হাকিম বলেন, “যারা চলচ্চিত্রে কাজ করছেন, তাদের অবশ্যই শিল্পী সমিতির সদস্য হওয়া উচিত। আমি মনে করি, এটা তাদের দায়িত্ব। তবে অনেকে ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে হয়তো আসতে পারেন না, এটা দোষের কিছু নয়।” 

শিল্পী সমিতির নির্বাচনে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। একটির সভাপতি পদে লড়ছেন ফাইট ডিরেক্টর ও প্রযোজক মকবুল হোসেন আরমান, সাধারণ সম্পাদক পদে চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি। এ প্যানেলে সহসভাপতি পদে রয়েছেন নূতন ও ইলিয়াস কোবরা। সহসাধারণ সম্পাদক পদে রিনা খান, সাংগঠনিক সম্পাদক চুন্নু, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক এম এ পারভেজ চৌধুরী আবীর, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক রাসেল মিয়া, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক মারুফ আকিব এবং কোষাধ্যক্ষ পদে কমল নির্বাচন করছেন।    

অন্য প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী অভিনেতা শিবা শানু এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী চিত্রনায়ক জয় চৌধুরী। এ প্যানেলে সহসভাপতি পদে রয়েছেন রোজিনা ও ডি এ তায়েব। সহসাধারণ সম্পাদক পদে সুব্রত, সাংগঠনিক সম্পাদক সনি রহমান, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক পলি, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক জ্যাকি আলমগীর, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক মুসফেকুল জামিল এবং কোষাধ্যক্ষ পদে জাদু আজাদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।   

এই দুই প্যানেলের বাইরেও ১০ জনের বেশি শিল্পী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচনে লড়ছেন।   

সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া শিল্পী সমিতির ২০২৬–২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। জুমার নামাজের জন্য দুপুরে এক ঘণ্টার বিরতি থাকবে। এবার মোট ভোটার সংখ্যা ৫৭৩ জন।