মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বারবার বাড়ি চলে যেত শিশু মিরাজুল ইসলাম। এজন্য পায়ে শেকল পরিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল। যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে সেই শেকলসহ পালিয়ে যায় শিশুটি।

নির্যাতনের দাগ দেখে মাদ্রাসার প্রধানের (মুহতামিম) বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগীর মা। এ ঘটনায় মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা মো. আসলাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তারকৃতকে কারাগারে পাঠানো হয়।

খুলনা নগরীর আড়ংঘাটার থানার শলুয়া হামিউস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদ্রাসার ঘটনা এটি। নির্যাতনের শিকার মিরাজুল এই মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র।

নির্যাতনের শিকার শিশুর বাবা মহসিন সর্দার জানান, তার ছেলে মিরাজুলকে স্থানীয় হামিউস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদ্রাসায় ভর্তি করেন। কিন্তু, সে মাদ্রাসায় থাকতে চাইতো না। প্রায় পালিয়ে বাড়ি চলে আসতো। গত শনিবার তাকে আবার মাদ্রাসায় দিয়ে আসলে মাদ্রাসার মুহতামিম আসলাম উদ্দিন একটি কক্ষে তাকে আটকে রাখেন। এবার যাতে পালাতে না পারে সেজন্য তার পায়ে শেকল দিয়ে বেঁধে মুগুরের সঙ্গে তালা ঝুলিয়ে দেন। পাশাপাশি তাকে মারধরও করা হয়। 

তিনি জানান, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কৌশলে তার ছেলে শেকলসহ পালিয়ে যায়। এ দৃশ্য দেখে তার মা রত্না বেগম বাদী হয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে রবিবার থানায় মামলা করেন। পুলিশ রাতেই ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।

ভুক্তভোগীর মা রত্না বেগম জানান, মিরাজুল প্রায়ই মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়ি চলে আসতো। গত রবিবার বিকেলে তাকে মাদ্রাসা থেকে আনতে গিয়ে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের লোকজন চিন্তিত হয়ে পড়েন। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে মাদ্রাসার পাশেই শিকলবন্দি অবস্থায় দেখতে পান শিশুটির নানা। এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ সময় তারা অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা মো. আসলাম উদ্দিনকে আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আসলাম উদ্দিন শিশুটিকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা ও মারধরের কথা স্বীকার করেন।

আড়ংঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হালিমুর রহমান বলেন, ‍“শিশুটির এক পা শেকল দিয়ে মুগুরের সঙ্গে তালা মেরে দেওয়া হয়েছিল। অপর পা ফাঁকা ছিল। শিশুটি সেই অবস্থায় পালিয়ে বাড়ি চলে যায়। এ ঘটনায় মামলার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভবিষ্যতে শিশু নির্যাতনের ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য অন্য শিক্ষকদের সতর্ক করা হয়েছে।”