জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের জন্মবার্ষিকী আজ। তিনি ১৮৫৭ সালের ৫ জুলাই জার্মানির স্যাক্সোনি প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা গটফ্রাইড আইজেনার ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক এবং প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ সংগঠক আর মা জোসেফিন ভিটালে আইজেনার ছিলেন সুশিক্ষিত বর্গেইস পরিবারের মেয়ে। সে সময়ে জার্মানিতে মেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ খুব বেশি ছিল না। তারপরও ক্লারা জেটকিন লেইপজিগের একটি কলেজে শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। শৈশবে জেটকিন শিক্ষক হওয়ার ইচ্ছা নিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু করলেও অচিরেই তিনি সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। ১৮৭৪ সালের দিকে তার সঙ্গে বিশেষ যোগাযোগ গড়ে ওঠে জার্মানির নারী আন্দোলন এবং শ্রম-আন্দোলনে জড়িত সংগঠনগুলোর।

এর কিছুদিন পর তিনি রাশিয়া থেকে পালিয়ে আসা মার্কসবাদী বিপ্লবী এবং তার অন্যতম বন্ধু ওসিপ জেটকিনকে বিয়ে করেন। ১৯১০ সালে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক কর্মজীবী নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ডেনমার্কের কোপেনহেগেন শহরে। এ সভায় ১৭টি দেশের শতাধিক নারী-প্রতিনিধি যোগদান করেন। এ সম্মেলনে জার্মানির সমাজতান্ত্রিক দলের নারী-দফতরের নেত্রী হিসাবে যোগদান করেন তিনি। সেখানে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের একটি খসড়া প্রস্তাব পেশ করেন। প্রস্তাবে তিনি বলেন, প্রতিবছর একই দিনে প্রতিটি দেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করতে হবে। একইসঙ্গে নিজে ৮ মার্চ ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ পালন করেন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে দল থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, যুদ্ধ চলাকালীন কোনো আন্দোলন করা যাবে না। এর প্রতিবাদে ক্লারা জেটকিন, কার্ল লিয়েবকেনচ্ট, রোজা লুক্সেমবার্গ এবং আরও কিছু প্রভাবশালী সদস্য দল থেকে সরে আসেন। যুদ্ধ চলাকালে যুদ্ধবিরোধী কার্যক্রম ও আন্দোলন করার জন্য তিনি বেশ কয়েকবার গ্রেফতার হন। যুদ্ধবিরোধী কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তিনি ১৯১৫ সালে বার্লিনে আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক নারীদের নিয়ে যুদ্ধবিরোধী সম্মেলন করেন।

ক্লারা জেটকিন ১৯৩৩ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে চলে যান। একই বছরের ২০ জুন সেখানেই তিনি মৃত্যবরণ করেন। মস্কোর ক্রেমলিনে তার মৃতদেহ সমাধিস্থ করা হয়।