চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ফ্রান্সের মুখোমুখি হয়েছিল প্যারাগুয়ে। লাতিন আমেরিকার দেশটি কিলিয়ান এমবাপ্পেদের ৬৯ মিনিট পর্যন্ত আটকে রেখেছিল। শেষ পর্যন্ত তাদের রক্ষণের ভুলে পেনালটি পেয়ে যায় ফ্রান্স। গোল করেন এমবাপ্পে। সেই গোলই বিশ্বকাপের শেষ আটে পৌঁছে দিয়েছে দুবারের বিশ্বজয়ীদের। পেনালটি গোলে কষ্টার্জিত জয়ের পর বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ফ্রান্স অধিনায়ক। এমবাপ্পে বলেছেন, বিশ্বকাপ জেতার জন্য প্রয়োজনে তিনি হাত ময়লা করতেও রাজি!

ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে বলেছেন, ‘দরকার হলে আমরা হাত ময়লাও করব। অনেকেই ভেবেছিলেন ফ্রান্স শুধু সুন্দর ফুটবল খেলবে। ভালো ফুটবল খেলবে। আমরা কিন্তু কুৎসিত ফুটবলও খেলতে জানি। দরকার হলে আমরা কঠিন, লড়াকু ফুটবল খেলব। সেভাবে খেলেই এই ম্যাচটা আমরা জিতেছি। এই ফুটবলটাও আমরা ওদের চেয়ে ভালো খেলেছি।’ এমবাপ্পে বুঝিয়ে দিয়েছেন, শারীরিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ফ্রান্সকে আটকানো যাবে না। তারা পরিচ্ছন্ন ফুটবলের পাশাপাশি শারীরিক লড়াইয়ের জন্যও তৈরি।

প্যারাগুয়ের আট ফুটবলার রক্ষণ সামলাচ্ছিলেন। ফ্রান্সের ফুটবলারদের তারা বক্সের মধ্যে প্রায় ঢুকতেই দিচ্ছিলেন না। এমবাপ্পেকেও কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। প্যারাগুয়ের রক্ষণ ভাঙতে না পেরে একসময় দিদিয়ের দেশমের মতো শান্ত স্বভাবের কোচও মেজাজ হারান। ম্যাচের শুরু থেকেই এমবাপ্পেদের শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা নিয়েছেন প্যারাগুয়ের ফুটবলাররা। এ নিয়ে ফ্রান্স অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা জানতাম ম্যাচটা কেমন হতে পারে। আমরা প্রমাণ করে দিয়েছি, ফ্রান্স শুধু আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতেই জানে না। এটাই ওদের ফুটবল। ওরা এভাবেই খেলে। প্রত্যেক দলই তাদের শক্তি এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলে। ফুটবল খেলার কোনো সঠিক বা ভুল পদ্ধতি হয় না। পদ্ধতি একটাই। সেটা হলো ম্যাচ জেতা।’ এমবাপ্পে আরও বলেন, ‘ওরা আমাদের যেভাবে খেলে হারাতে চেয়েছিল, আমরা ঠিক সেভাবে থেকেই ওদের হারিয়েছি।’

কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ গতবার সেমিফাইালে খেলা মরক্কো। প্রতিপক্ষ হিসাবে এমবাপ্পে পাবেন বন্ধু এবং সাবেক সতীর্থ আশরাফ হাকিমিকে। পরের ম্যাচ নিয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘হাকিমি আমাকে একটা মেসেজ পাঠিয়েছে। এখনো দেখা হয়নি। মরক্কো খুবই ভালো দল। ওদের সঙ্গে খেলা পড়ায় আমি খুশি। ইতিবাচক মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামব আমরা। নিজেদের উজাড় করে দেব। আশা করি, আমরা শিরোপার দিকে আরও এগিয়ে যেতে পারব।’

একটি ছোট বিতর্কেও জড়িয়েছেন এমবাপ্পে। খেলা শেষে তিনি জয় উদ্?যাপন করছিলেন। সে সময় প্যারাগুয়ের গোলকিপার অরলান্দো গিল তার সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করতে যান। কিন্তু এমবাপ্পে তার দিকে ফিরেও তাকাননি। হতাশ এবং বিরক্ত গিল হাতে থাকা বলটি এমবাপ্পের পিঠে ছুড়ে মারেন। দুই ফুটবলারের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।