পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আবারও একটি মৃত ইরাবতী (Irrawaddy) প্রজাতির ডলফিন ভেসে এসেছে। পরিবেশকর্মীদের দাবি, উপকূলে এ ধরনের সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু উদ্বেগজনক এবং এর কারণ অনুসন্ধানে কার্যকর গবেষণা প্রয়োজন।

রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে জোয়ারের পানিতে কুয়াকাটা সৈকতের জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন এলাকায় প্রায় আট ফুট দৈর্ঘ্যের ডলফিনটির মরদেহ ভেসে আসে। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে প্রাণীটির শরীরের চামড়া প্রায় পুরোপুরি উঠে গেছে।

জানা গেছে, উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন, কুয়াকাটা (উপরা) এর সদস্য জলিলুর রহমান প্রথমে ডলফিনটি দেখে সংগঠনকে খবর দিলে স্বেচ্ছাসেবকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে বনবিভাগের সহযোগিতায় মাটিচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা করে।

সংগঠনটি জানায়, এর আগে- গত ২৯ জুন সৈকতে ৫৮ ফুট লম্বা অর্ধগলিত তিমি ভেসে এসেছে। এটি নিয়ে অনেকটা আতঙ্কিত পরিবেশকর্মীরা।

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন, কুয়াকাটা (উপরা) আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু বলেন, আগের তুলনায় ডলফিনের মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমলেও এখনও নিয়মিত এমন ঘটনা ঘটছে। আমরা চাই, সরকার ও সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠান এ মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কার্যকর গবেষণা পরিচালনা করুক।

তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা) উপকূলীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে। ডলফিন রক্ষা মানেই আমাদের উপকূলীয় পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, মৃত প্রাণীটি ইরাবতী প্রজাতির ডলফিন (Orcaella brevirostris)। ডলফিনটির শরীরে থাকা রক্তাক্ত দাগ দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নৌযানের আঘাত, মাছ ধরার জাল বা অন্যান্য মৎস্য আহরণ সরঞ্জামের সঙ্গে সংঘর্ষই মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এছাড়া শিল্পবর্জ্য, প্লাস্টিক, তেলসহ নদী ও মোহনার দূষণও এ প্রজাতির জন্য বড় হুমকি। তিনি ডলফিন অভয়ারণ্য এলাকায় জালের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয়দের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মহিপুর রেঞ্জের বন কর্মকর্তা কেএম. মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে আমাদের টিম পাঠানো হয়েছে। মৃত ডলফিনটি যথাযথভাবে মাটি চাপা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে জনস্বাস্থ্যের সমস্যা সৃষ্টি না হয়।

আসাদুজ্জামান মিরাজ/কেএইচকে