অব্যাহত মার্কিন হামলার মধ্যে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে ব্যাপক পালটা হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে এসব দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের রাডার সিস্টেম, গোয়েন্দা তথ্যকেন্দ্র, বিমান রাখার স্থান, দুটি যুদ্ধবিমান ও আরও তিনটি বিমান ধ্বংস হয়েছে। শুক্রবার রাত ও শনিবার ভোরে এসব হামলা চালায় ইরান। এ অবস্থায় উপসাগরীয় দেশ ও জর্ডানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তেহরান বলেছে, ইরানে হামলার দায়ভার তাদের বহন করতে হবে।

সম্প্রতি ইরানের বেসামরিক বিভিন্ন স্থাপনা-যেমন বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু, পানি শোধনাগারে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে এ হুঁশিয়ারি এলো। আশঙ্কা করা হয়েছে-ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা চুক্তি বা এমওইউ শনিবার তারা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ফার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত হামলার মুখে ইরান ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী নিজেদের প্রতিশ্রুতি পালন স্থগিত করেছে। ওই স্মারকের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের সব প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন ও স্থগিত করেছে। এ কারণে তেহরানও এ চুক্তির বাস্তবায়ন ও এ সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি পালন স্থগিত করেছে; বর্তমানে ইরান ‘দেশ রক্ষায় ব্যস্ত’।

দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধের পরিসর ও তীব্রতা বাড়ছে। এ অবস্থায় নতুন হুমকি বৈশ্বিক অনিশ্চয়তাকে আরও উসকে দিল। এরই মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রভাব জ্বালানির বাজারে পড়তে শুরু করেছে। লাফিয়ে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। অয়েলপ্রাইস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিক্রি হয়েছে ৮৮ দশমিক ১০ ডলারে, যা আগের দিনের চেয়ে ৫ শতাংশ বেশি। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধাক্কা খাবে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের টানা সপ্তম রাতের হামলার পর শনিবার ইরান ওয়াশিংটনের উপসাগরীয় মিত্রদেশ ও জর্ডানের ওপরও হামলা চালিয়েছে। বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার হুমকির কারণে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

আইআরজিসি জানায়, তারা কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক সহায়তা কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে এবং আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটিতে রাডার স্থাপনা ধ্বংস করেছে। কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানায়, ইরানের ‘ধারাবাহিক হামলায়’ তাদের একটি তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; আহত হয়েছেন কয়েকজন।

আইআরজিসি জানিয়েছে, বাহরাইনের শেখ ইসা বিমান ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানগুলোর সমাবেশস্থল এবং একটি গোয়েন্দা তথ্যকেন্দ্র লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবর অনুযায়ী, শনিবার ভোরে জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত দুটি যুদ্ধবিমান এবং আরও তিনটি বিমান ধ্বংস করেছে।

সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য অবকাঠামোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান এসব হামলা চালায়। শনিবার ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা আইএলএনএ জানায়, গত তিন সপ্তাহে মার্কিন হামলায় ৫০ জন নিহত ও অন্তত ৫০০ জন আহত হয়েছেন।

আইআরজিসির হুঁশিয়ারি : যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব দেশকে পালটা হামলার জন্য প্রস্তুত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। সংস্থাটি বলছে, ইরানের ওপর হামলার ‘লঞ্চ প্যাড’ বা উৎক্ষেপণকেন্দ্র হিসাবে নিজেদের ভূখণ্ডকে ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার দায়ভার এসব দেশকেই বহন করতে হবে। এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কাছ থেকে ‘কঠোর ও ধ্বংসাত্মক জবাব’ পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। অথচ সংঘাত শুরুর সময়কার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তুলনায় ইরানের বাহিনী এখন আরও শক্তিশালী। বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র এক নতুন কৌশল নিয়েছে। তারা পরাজয় আড়াল করতে যুদ্ধাপরাধ ঘটাচ্ছে। হাসপাতাল, সেতু, রেলপথ, বিমানবন্দর, বন্দর, টেলিযোগাযোগ কেন্দ্র ও অনুরূপ স্থাপনায় ধ্বংসাত্মক হামলা এবং বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করছে।

নেতানিয়াহু যুদ্ধাপরাধী, তার স্থান হেগে হওয়া উচিত-মামদানি : নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, নেতানিয়াহুর স্থান হওয়া উচিত ‘হেগে’। তিনি হলেন এমন একজন যুদ্ধাপরাধী, যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত অভিযোগ গঠন করেছেন। আলজাজিরা জানায়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে সেপ্টেম্বরে নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের কথা রয়েছে।

মেয়র যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংবাদমাধ্যমকে জানান, নেতানিয়াহুর মতো কোনো বিদেশি নেতাকে গ্রেফতারের জন্য নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগকে নির্দেশ দেওয়ার আইনি এখতিয়ার তার আছে কিনা, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে শহরের আইন বিভাগের সঙ্গে তার ‘সক্রিয় আলোচনা’ চলছে।