রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকার একটি মোবাইলের দোকানে ১০০ টাকা ক্যাশইন করাকে কেন্দ্র করে হামলা ও কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার মীমাংসা করে দিতে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন দোকান মালিক মো. আব্বাস (৩৪)। তবে পুলিশ বলছে, চাঁদা দাবির তথ্য সঠিক নয়।
এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। লিখিত অভিযোগে মো. আব্বাস জানান, ‘সোমবার (২০ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে জাকির নামে এক ব্যক্তি আমার দোকানে এসে তার বিকাশ নম্বরে ১০০ টাকা ক্যাশ ইন করার জন্য অনুরোধ করেন। আমি তাকে জানাই যে, বিকাশে ১০০ টাকা ক্যাশ ইন করা সম্ভব নয়। এ কথা শুনে জাকির আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে বলে যে, তাকে ১০০ টাকাই ক্যাশ ইন করে দিতে হবে, অন্যথায় সে আমার দোকান বন্ধ করে দেবে। এক পর্যায়ে দোকানের সাটার নামিয়ে দেই।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘এ ঘটনায় জাকিরের সঙ্গে আমার কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরবর্তীতে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে জাকির, সাদ্দাম ও শাহীন নামে ব্যক্তিদের কাছে অভিযোগ করেন এবং রাত আনুমানিক ৯টায় শাহীন ও সাদ্দামসহ আরও প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন তার বাসার সামনে একটি সালিশ বসায়। সালিশ চলাকালে শাহীন ও সাদ্দাম আমাকে জানায় যে, তারা এ ঘটনার সমাধান করে দেবে। তবে এর বিনিময়ে তাদের ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। আমি ও আমার লোকজন এই অন্যায় দাবিতে রাজি না হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে শাহীনের হুকুমে আমার ঢাকা উদ্যানের অন্যান্য দোকানে ভাঙচুর করে। দোকনের স্টাফ মাহাবুবকে মারধর করে এবং রাকিবের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে। পরবর্তীতে আমাকেসহ স্টাফদের মারধর করে দোকানগুলো বন্ধ করে দেয়।’
তবে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেজবাহ্ উদ্দিন ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি টোটালি ভুয়া, মিথ্যা এবং প্রোপাগান্ডা। চাঁদা দাবির কোনো ঘটনা ঘটেনি। ফ্লেক্সিলোড নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। এই ঝামেলাকে চাঁদার ঘটনা বানিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দোকানদার ১০০ টাকা ফ্লেক্সিলোড দেবে না। কিন্তু যিনি চাইছেন তিনি বলেন দিতে হবে। এরপর জাকির নামের যে ব্যক্তি ফ্লেক্সিলোড দিতে এসেছেন তাকে দোকানের ভেতরে রেখে মারধর করা হয়। পরে জাকির বন্ধু-বান্ধব নিয়ে দোকানিকে মারধর করেন। এটাই হলো মূল ঘটনা। এই ঘটনাকে চাঁদা দাবি বানিয়েছে। পরে আবার দুই পক্ষ বৈঠকে বসে। সেখানে মীমাংসা হয়নি।
কেআর/এসএনআর








