লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য অনুষ্ঠিত একটি সালিসি বৈঠকে বাগ্বিতণ্ডার জেরে নজরুল ইসলাম (৭০) নামের এক বৃদ্ধকে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে। আহত অবস্থায় তাঁকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত আশিক গুলিবিদ্ধ বৃদ্ধের নাতি।
শনিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার বশিকপুর ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামের হামিদ উল্যাহ পাটওয়ারী বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ নজরুল ইসলাম ওই এলাকার মৃত খলিলুর রহমান পাটওয়ারীর ছেলে। অভিযুক্ত আশিক একই বাড়ির ইসমাইল হোসেন ফারুকের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইসমাইল হোসেন ফারুক ও তাঁর স্ত্রী আয়েশা বেগমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এই বিরোধ মীমাংসায় শনিবার সকালে একটি সালিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ফারুকের চাচা নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে আয়েশা বেগমের সঙ্গে উপস্থিত ব্যক্তিদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে তিনি ঢাকায় অবস্থানরত ছেলে আশিককে ফোনে বিষয়টি জানান। সন্ধ্যায় আশিক এলাকায় এসে পুনরায় বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে তিনি নজরুল ইসলামকে গুলি করেন। ঘটনার পর থেকে আশিক পলাতক রয়েছেন।
ইসমাইল হোসেন ফারুক বলেন, ‘আশিক আমার চাচাকে গুলি করেছে। সে ঢাকায় ছিল। তার মা তাকে ফোন করে ডেকে এনেছে। এখন আমাকেও হুমকি দিচ্ছে। আমি এই ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
গুলিবিদ্ধ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ফারুক আমাকে সালিসি বৈঠকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে ফারুকের স্ত্রী আয়েশা উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং কারও কথা শুনতে রাজি ছিলেন না। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে আশিক এসে আমাকে গুলি করে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা শামিল মোহাম্মদ আফজাল বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই বৃদ্ধকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাঁকে এক্স-রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর শরীরের ভেতরে গুলি রয়েছে কি না নিশ্চিত হওয়া যাবে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’








