ভারতের ছত্তিশগড়ের অম্বিকাপুরে গাঁজা চোরাচালানের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে গিয়ে উল্টো নিজেদের গাড়ি চুরির মামলার গ্যাঁড়াকলে পড়েছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) গভীর রাতে অম্বিকাপুরের কোতোয়ালি থানা এলাকার সাত্তিপাড়ায় এক সন্দেহভাজন মাদক কারবারিকে ধরতে গিয়ে এই অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় পুলিশের একটি বিশেষ দল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গোপণ তথ্যের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ সাত্তিপাড়ার ওই বাড়িতে আকস্মিক অভিযানে যায়। পুলিশ যখন মূল অভিযুক্তকে ধরার জন্য বাড়ির ভেতরে ব্যস্ত, ঠিক তখনই প্রধান সন্দেহভাজনের এক আত্মীয় মুকেশ নামদেও পেছনের দরজা দিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসেন।

পালিয়ে যাওয়ার সময় বাড়ির সামনেই পুলিশের মাহিন্দ্রা বোলেরো মডেলের একটি এসইউভি গাড়ি পার্ক করা দেখতে পান তিনি। পুলিশ কর্মকর্তারা গাড়ির ভেতরেই চাবি রেখে গিয়েছিলেন এবং গাড়িটি পাহারা দেওয়ার জন্যও বাইরে কেউ ছিল না। এই মোক্ষম সুযোগ কাজে লাগিয়ে মুকেশ নামদেও পুলিশের গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চোখের পলকে সেখান থেকে চম্পট দেন। পুলিশ কর্মকর্তারা যখন বিষয়টি টের পান, ততক্ষণে তাঁরা নিজেরাই নিজেদের পাতা ফাঁদে পড়ে গেছেন!

তবে পুলিশের গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার রোমাঞ্চকর এই দৌড় খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। ঘটনাক্রমে, ওই গাড়ির ভেতরেই জেলা পুলিশ সুপারের (ডিএসপি) ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটি রয়ে গিয়েছিল, যা পরবর্তীতে তদন্তকারীদের জন্য ট্র্যাকিং ডিভাইস বা জিপিএস হিসেবে কাজ করে।

সাইবার সেলের কর্মকর্তারা ওই মোবাইল ফোনের লাইভ লোকেশন ট্র্যাক করে শহরের ভেতরেই গাড়িটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হন। লাইভ লোকেশনের সূত্র ধরে পুলিশ দ্রুত ধাওয়া করে মুকেশ নামদেওকে পাকড়াও করে এবং গাড়ি ও ডিএসপির মোবাইল ফোন—উভয়ই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে।

মূল মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে পুলিশের এই অভিযান হয়তো পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সফলই হয়েছিল, তবে খোদ পুলিশের গাড়িটিই যে চোর পালানোর বাহন হয়ে উঠবে—তা অভিযানের আগে কোনো পুলিশ কর্মকর্তাই কল্পনা করতে পারেননি।