হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া সীমান্তে গভীর রাতে নিরাপত্তা বাতি বন্ধ করে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। বিজিবি স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ওই অপতৎপরতা ঠেকিয়ে দেয়। বাধ্য হয়ে বিএসএফ ভারতীয় নাগরিকদের সীমান্তের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয়। শুক্রবার রাত ৩টার দিকে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের তেলিয়াপাড়া বিওপির অধীন ১৯৮২ নম্বর মেইন পিলারের ১১-এস সাব-পিলারসংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, তেলিয়াপাড়া চা বাগানের মিশন লাইন ও বালুগাঙ রাবার বাগানসংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় হঠাৎ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নিরাপত্তা বাতি বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে জানতে পেরে বিজিবির টহল দল দ্রুত সীমান্তে অবস্থান নেয়। পরে বিএসএফ কিছু ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করলে এলাকাবাসীর সহযোগিতা নিয়ে বিজিবি তা প্রতিহত করে।

৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান শনিবার দুপুরে জানান, এ ঘটনায় বিএসএফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা বৈঠকের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, সীমান্তে যে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নজরদারি ও টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে।

রৌমারী সীমান্তে ১৩ দিন আটকা তিন যুবক : কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ভুন্দুরচর সীমান্তের শূন্যরেখায় বিএসএফের পুশইনের শিকার তিন যুবক ১৩ দিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গত ১৪ জুন গভীর রাতে ভারতের মানকারচর-সোনারপাড়া সীমান্ত এলাকায় ১০৬৬ নম্বর সীমান্ত পিলারের পাশ দিয়ে ওই তিনজনকে ঠেলে দেয় বিএসএফ। এরপর থেকে তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। ঝড়-বৃষ্টি ও রোদ মাথায় নিয়ে তারা খোলা আকাশের নিচে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

রৌমারী ইউপি সদস্য মো. রুহুল আমিন বলেন, সীমান্তের কষ্ট থেকে এখনো উদ্ধার পায়নি তিনজন। দুদেশের উচ্চপর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের দাবি করেন তিনি। রৌমারী হিজলামারী বিওপি ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার দুলাল জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।