বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সারাদিন দফায় দফায় লোডশেডিং হচ্ছে। তবে রাতে লোডশেডিং হচ্ছে মারাত্মক।

বিশেষ করে মধ্যরাতে টানা লোডশেডিংয়ে তীব্র গরমে মানুষ ঘুমাতে পারছে না। তবে কেন মধ্যরাতে এই লোডশেডিং-তা ভাবিয়ে তুলেছে সংশ্লিষ্টদের। সোমবার রাত ২টায় সারা দেশে লোডশেডিং হয়েছে ২ হাজার ৮২৮ মেগাওয়াট। অথচ দুপুর ১২টায় দিনের পিক আওয়ারে লোডশেডিং হয়েছে ৩৩৯ মেগাওয়াট। এর আগে রোববার রাত ২টায় লোডশেডিং হয়েছিল ৩ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি। মধ্যরাতে টানা লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রামগঞ্জের মানুষ ঠিকমতো ঘুমাতে পারছে না। তবে ঢাকায় লোডশেডিংয়ের কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি বলে জানা গেছে। এদিকে ঢাকার বাইরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গায় মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবি এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড-আরইবির কর্মকর্তারা জানান, বিশ্বকাপ ফুটবল এবং ইজি বাইক চার্জের কারণে এখন রাতে কখনো কখনো বিদ্যুতের চাহিদা ৩ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বেড়েছে। যে কারণে কোনোভাবে হিসাব মেলানো যাচ্ছে না। আগে মধ্যরাতে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেওয়া হতো। এখন এগুলো বন্ধ করা যাচ্ছে না। এতে করে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বাড়ছে। পিডিবির চট্টগ্রাম জোনের প্রধান প্রকৌশলী কামাল আহমেদ সোমবার যুগান্তরকে বলেছেন, মধ্যরাতে বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার খেলার দিন বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে যায়। এখন মানুষ অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকে। এ কারণে রাতে লোডশেডিং অনেক বেড়েছে। তবে বিদ্যুতের উৎপাদনও বেড়েছে।

আরইবির একজন সিনিয়র কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, খেলার বাইরে ইজিবাইকের চার্জ দিতে প্রচুর বিদ্যুৎ লাগছে। এখন দেশে ৪০ থেকে ৫০ লাখ ইজিবাইক আছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ বা চার্জিংয়ের কোনো হিসাব কেউ করছে না। পিডিবি জানিয়েছে, সন্ধ্যাকালীন পিক আওয়ারে সর্বোচ্চ ১৭ থেকে ১৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকার কথা। এই হিসাবে মধ্যরাতে এই চাহিদা ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াটের কম-বেশি হবে। কারণ অফিস আদালত এবং কলকারখানা এ সময়ে খোলা থাকে না। কিন্তু রাতে বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি! সোমবার রাত ২টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ২৮২ মেগাওয়াট। অথচ ওইদিনে অর্থাৎ গতকাল বেলা ৪টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ১৩২ মেগাওয়াট।

ঢাকার বাইরে থেকে প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) : চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনায় পল্লী বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিং এবং ভূতুড়ে বিলের প্রতিবাদে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন বিএনপি নেতারা। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে দর্শনা পল্লী বিদ্যুতের এজিএম অফিসে কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে এই বৈষম্য নিরসনের সতর্ক বার্তা দিয়ে আলটিমেটাম ঘোষণা দিয়েছেন। দাবি আদায় না হলে তারা বৃহত্তর কর্মসূচি দেবেন বলে জানান।

চারঘাট (রাজশাহী) : চারঘাটে প্রচণ্ড গরম আর পাল্লা দিয়ে লোডশেডিংয়ের কবলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘরে-বাইরে কোথাও নেই শান্তির সুবাতাস। প্রতি ঘণ্টা অন্তর-অন্তর বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ক্ষোভে ফুঁসছে পল্লী বিদ্যুতের প্রায় ৭৫ হাজার গ্রাহক। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাওয়ায় অনিচ্ছাকৃতভাবেই লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

দাগনভূঞা (ফেনী) : দাগনভূঞা উপজেলায় লাগামহীন লোডশেডিংয়ে জনজীবনে অতীষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বেপোরোয়া লোডশেডিংয়ে গ্রামের কোথাও শিডিউল মানা হচ্ছে না। এক্ষেত্রে দাগনভূঞার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিস বা উপকেন্দ্রে অথবা অভিযোগ অফিসগুলোতে ফোন করলেও ফোন রিসিভ করছে না। প্রতিদিন সমিতির আওতাধীন দাগনভূঞা এলাকায় গড়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ থাকছে না। কোথাও কোথাও ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টাও লোডশেডিং হচ্ছে। এতে ক্ষুদ্র শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ব্যাঘাত এবং ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিপাকে পড়ছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ গ্রাহকদের ভোগান্তি চরমে। তীব্র গরমে শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা নাজুক।