টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুর এক নারী, তার স্বামী ও আট বছরের শিশুকে পিটিয়েছেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও শুক্রবার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। নুপুর এক সময় জাসদ, কমনিস্ট এবং জাতীয় পার্টির রাজনীতি করলেও ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি ইউপি নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নৌকা প্রতীকে ষষ্ঠবারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য।

৫১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, ইউপি চেয়ারম্যান নুপুর লাঠি হাতে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে হেঁটে আসছেন। পরে তিনি একটি মাটির স্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে সেখানে উপস্থিত এক নারীর উদ্দেশে অশালীন ভাষায় কথা বলেন। এ সময় ওই নারী প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যান প্রথমে গেঞ্জি পরা এক ব্যক্তিকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। পরে ওই নারী এগিয়ে এসে মারধরের প্রতিবাদ করে থামাতে চাইলে তাকেও পেটাতে দেখা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভিডিওটি ২৭ জুন সকালে ধারণ করা হয়েছিল। ইউনিয়নের তেঘরী কেশব গ্রামে বাসন্তী রানীর জমির ওপর রাস্তা নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত চেয়ারম্যান নুপুরের বাড়িও একই গ্রামে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাসন্তীর বাবা সুনীল সরকার, স্থানীয় উপেন্দ্র মন্ডলসহ কয়েকজন প্রায় ৪০ বছর আগে নিজেদের জমিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলেন। সেখানে সুনীল শিক্ষকতা করতেন। তার দুই মেয়ে রয়েছে। ২০১২ সালে তিনি তার জমি স্ত্রী মিনতি রানীর নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। প্রায় আট বছর আগে সুনীলের মৃত্যু হলে প্রতিষ্ঠানটিতে পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এটি শুধু উপজেলা ও ইউপি নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ২০২১ সালের নভেম্বরে মিনতি জমিগুলো তার দুই মেয়ে রত্না সরকার ও বাসন্তী রানীর নামে রেজিস্ট্রি করে দেন।

বাসন্তীর অভিযোগ, তার চাচাতো চাচা উপেন্দ্র সরকার আগে তাদের বাড়ির সামনের রাস্তা ব্যবহার করতেন। এ জন্য তাদের কিছু জমিও তাকে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তিনি একটি ঘর নির্মাণ করেন। সম্প্রতি ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের ফলে তাদের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সীমানাপ্রাচীরের দক্ষিণ পাশে তাদের জমির ওপর দিয়ে জোর করে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন ইউপি চেয়ারম্যান নুপুর। এতে বাধা দিলে তাকে, তার স্বামী রামগোপাল সাহা ও মেয়ে পায়েল সাহাকে মারধর করা হয়। রাস্তা নির্মাণের কথা বলে সরকারি রাস্তার পাশের কয়েকটি গাছ কেটে ফেলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাসন্তী রানী আরও বলেন, ‘চেয়ারম্যান রাস্তার কথা বলে আমাদের জমি দখল করতে চাইছেন। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললে মারধর এবং গালগাল করেন। আমার আট বছরের ছোট মেয়েকেও মারধর করা হয়েছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিভাষ সরকার নুপুর। তিনি বলেন, ‘ওই নারী ভালো না। বাউন্ডারির বাইরেও স্কুলের পাঁচ-ছয় ফুট জায়গা আছে। উপেন্দ্রর চলাচলের জন্য সেখানে রাস্তা করার সময় ওই নারী বাধা দেন। এ জন্য তাদের কঞ্চি দিয়ে পিটিয়েছি।’

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবীব বলেন, এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।