হজরত ইবনু আবি মুলাইকা (রহ.) বর্ণনা করেন, দুই নারী একটি ঘর বা কক্ষে বসে সেলাইয়ের কাজ করছিলেন। একপর্যায়ে তাদের একজনের হাতের তালুতে সুঁই বিদ্ধ হয়। তখন তিনি অপর নারীর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে সুঁই ফুটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনেন।

বিষয়টি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর কাছে উপস্থাপন করা হলে তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, “যদি মানুষের দাবিমাত্রের ভিত্তিতে তাদের প্রাপ্য নির্ধারণ করা হতো, তাহলে মানুষের জীবন ও সম্পদের কোনো নিরাপত্তা থাকত না।” এরপর তিনি নির্দেশ দেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আল্লাহর নামে শপথ করানো হোক এবং তার সামনে পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত পাঠ করা হোক।

পরে অভিযুক্ত নারীকে শপথ করানো হলে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করেন। তখন ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, “শপথ করবে অভিযুক্ত ব্যক্তি।” (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৫৫২)

হাদিসে যে আয়াতের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, তার অর্থ হলো—

“যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার এবং নিজেদের শপথকে সামান্য মূল্যের বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়, পরকালে তাদের কোনো অংশ থাকবে না। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদের পবিত্রও করবেন না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ৭৭)

হাদিস থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা

১. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের জানমাল ও অধিকার সংরক্ষণ করা অপরিহার্য।

২. কেবল অভিযোগ করলেই কোনো ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয় না; অভিযোগ প্রমাণের জন্য সাক্ষ্য-প্রমাণ প্রয়োজন।

৩. বিচারক বা সালিসকারীর উচিত যথাযথ তদন্ত ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। শুধুমাত্র অভিযোগ শুনে রায় দেওয়া ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

৪. বিচার ও সালিসের দায়িত্ব জ্ঞানী, বিচক্ষণ ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের ওপর অর্পণ করা উচিত।

৫. মিথ্যা অভিযোগ ও মিথ্যা শপথ উভয়ই গুরুতর অপরাধ। সত্য প্রতিষ্ঠায় সততা ও আল্লাহভীতি অপরিহার্য।

৬. পার্থিব আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি মানুষের অন্তরে আল্লাহর ভয় ও জবাবদিহিতার অনুভূতি সৃষ্টি করাও গুরুত্বপূর্ণ।

৭. ইসলামী শরিয়তে শপথ অনেক ক্ষেত্রে সত্যতা যাচাইয়ের একটি গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়।

৮. আল্লাহর অবাধ্যতা তাঁর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গের শামিল। তাই প্রতিটি মুসলমানের উচিত আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলা।

৯. মিথ্যা শপথ বা অন্য কোনো গুনাহে লিপ্ত হলে আন্তরিক তাওবা ও কাফফারার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত।

১০. তাওবা মানুষের জন্য মুক্তির পথ। গুনাহের পর আন্তরিকভাবে তাওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করেন, কিন্তু তাওবা ছাড়া গুনাহের পরিণতি পরকালে ভোগ করতে হতে পারে।

The post মিথ্যা শপথ সম্পর্কে রাসুল (সা.) কী বলেছেন? appeared first on ZoomBangla.